Aug 10, 2022

-ঃশুন্যঃ-২

পরেরদিন আমার আর আমার দার্শনিক বন্ধুর চা এর আসরে হাজির নাতিবাবু।বলল দাদু তুমি কাল যে বললে ট্রেনটা এগোতে থাকলে বাকি পথটা যখন যত ছোট আমরা ভাবতে বা মাপতে পারি তত ছোট হবে তখন ট্রেন এগোলে আর কিছু বাকি থাকবে না,ট্রন স্টেশনে পৌঁছে যাবে। কিন্তু কত ছোট আমরা মাপতে বা ভাবতে / হতে পারে?
আমি বললাম সাবচেয়ে ছোট দৈর্ঘ যা আমরা মাপতে পারি তা হল ৫০ পিকো মিটার মানে ৫×১০^-১১মিটার।আর সবচেয়ে ছোট দৈর্ঘ যা সম্ভব তা হল প্ল্যানক দৈর্ঘ যেটা হল ১.৬×১০^-৩৫.
ও আচ্ছা, বলে সে চলে গেল।
বন্ধু বলে বসল " আচ্ছা এখানে তাহলে শুন্য হচ্ছে ধনাত্মক ও ঋনাত্মক দিকে যত ছোট হতেপারে সেই দুরত্বের মাঝের বিন্দু? "
"ঠিক। কিন্তু এখানেই এসেগেল ইন্দ্রিয়ের নির্ভরতা। কারন দৈর্ঘ বা দুরত্ব মানেই দুটি বিন্দুর মধ্যে অবস্থানের পার্থক্য। এ সবই সাপেক্ষ সত্য, নিরপেক্ষ সত্যে দুই বা দিত্ব নেই তাই দুরত্বও নেই,আদি বা অন্তও নেই। পরিবর্তন নেই তাই সময় নেই, সুর্য,চন্দ্র,বাতাস আলো কিচ্ছু নেই।"
"ধুত্তেরি কেবল না আর না, কি আছে বলনা?"
"ওই খানেই তো মুস্কিল,  আমরা তো সাপেক্ষ জগতে আলোচনা করছি,এখানকার ভাষায়।
এই ভাষা তো সাপেক্ষ ভাষা, কিকরে এই ভাষা নিরপেক্ষকে বর্ননা করবে? তাই হয় বলছে সেখানে কি কি নেই,বা তা কি কি নয়। আর যেই তার বিশেষত্ব বলতে যাচ্ছে, ভুল হয়ে যাচ্ছে, মানে যদি বলে তিনি চিরকালের, ওমনি পন্ডিতেরা বলবেন যেকানে কাল নেই, সেখানে চিরকালের? তাই তর্ক মেনে কেউ বলেছে শুন্য,  আর তর্কসাপেক্ষে ভুল জেনেও সাপেক্ষ জগতের ভাষায় কেউ বলেছেন।
তিনি সচ্চিদানন্দ স্বরুপ। "
এমন সময় আবার এসে হাজির নাতিবাবু " দাদু, আমি কো-অর্ডিনেট জিওমেট্রি পড়ছি। তুমি বল তিনটি অক্ষের সংযোগস্থলটি হচ্ছে শুন্য। মানে এই ঘরের উত্তর এবং পুর্ব দেওয়াল  আর মেঝে কে যদি অক্ষতল বলি,তাহলে উত্তর আর পুর্ব দেওয়াল যে রেখায় মিলেছে তার মেঝের উপরের বিন্দুকে শুন্য ধরলে পাখাটার অবস্থান নিশ্চয় করে বলা যায়( ৫,৫,৮) ফুট। তাহলে( ০,০,০) কে কিছু নেই বলা যাবেনা কেন?"

তোর ঘরের কোনাটা বাড়ির উত্তরদিকের দেয়াল থেকে,পুবদিকের দেওয়াল থেকে আর প্লিন্থলেভেল থেকে কত দূর?
সেতো (১০,১০,১০) ফুট।
তাহলে তোর শুন্যবিন্দু বাড়ির উত্তর, পুর্ব দেওয়াল আর প্লিন্থ লেভেলকে অক্ষতল বললে (১০,১০,১০)এ অবস্থিত। মানে তোরকাছে যা শুন্য অন্য অক্ষতলেএর হসেবে তার মান শুন্য নয়।
ও তাই, বলে নাতিবাবু বিদায় নিল।
আর আমি বন্ধুকে বললাম।
তাই 
শুন্য শুধু শুন্য নয় জানিবে নিশ্চয়।
'শুন্য' আর 'পুর্ন ' "ব্রহ্মে"একাকার হয়।
।।আশীষ ঘোষাল।। 

-ঃশুন্যঃ-১


সেদিন নাতিবাবু এসে বলল, দাদু শুন্য মানে কি?
আমি বললাম, শুন্য মানে কিছু নেই। নাতিবাবু বলল  "আরে আমিও তো তাই বললাম।কিন্তু তার উত্তরে আমার বন্ধু একটা ধাঁধাঁ দিল, আমি উত্তর দিতে পারিনি,তুমি বলে দেবে?"
আমি জিজ্ঞেস করলাম ধাঁধাঁটা কি?
নাতিবাবু বলল " একটা ট্রেন দক্ষিনেশ্বর ছেড়ে বরানগরের দিকে রওনা দিল, যখন আর্ধেক পথ গেল তখন অর্ধেক বাকি, যখন বাকিটার অর্ধেক গেল তখন একের চার বাকি।তার অর্ধেক গেলে একের আট বাকি, এভাবে যতই এগিয়ে যায় কিছু বাকি থাকে, কারন কোন ভগ্নাংশই শুন্য নয়।তবে ট্রেন কিকরে বরানগরে পৌছাবে?
এতো বড় শক্ত প্রস্ন।ঠিক প্রস্নটা শক্ত নয়, কিন্তু উত্তর টা বোঝা শক্ত।
শুন্য মানে কিছুই নেই, আগে বলেছি, আর এখন বলছি শুন্য ধনাত্মকও নয় ঋনাত্মকও নয়। বলত দুটোই কি একই কথা?
নাতিবাবু মাথা চুলকাতে লাগল, বলল "একই তো মনে হচ্ছে।"
বেশ, তার মানে শুন্যের একদিকে ধনাত্মক অন্যদিকে ঋনাত্মক। এখন যদি বলি +১, তার মানে কি? ধনাত্মক এক থেকে শুন্যের দিকে এগোলে একটা ভগ্নাংশ সব সময় পডে থাকবে, কিন্তু আমাদের ধারণা অনুযায়ী এত ছোট হবে যে তাকে আর ভাঙা যাবেনা। মানে ট্রেনটা যত কম আমরা ভাবতে পারি তত টা বাকি থাকার পর এগোলে আর কিছু বাকি থাকবে না।আর তাই ট্রেনটা পৌঁছে যাবে।
তাহলে মনে কর এক ঝুড়ি পেয়ারা তে ৫টা পেয়ারা আছে, আর আমার কাছে পেয়ারা কাটার কোন ছুরি নেই। তাহলে ঝুড়িতে ধনাত্মক সংখ্যার পেয়ারা রাখতে গেলে অন্তত একটা যোগ দিতে হবে আর ঋনাত্মক সংখ্যার পেয়ারা রাখতেহলে অন্তত একটা নিয়ে নিতে হবে।
এখানে একঝুড়ি পেয়ারা মানে শুন্য,কারন এখানে পেয়ারার সংখ্যা ধনাত্মকও নয়, ঋনাত্মকও নয়। একটা যোগ হলে ধনাত্মক, একটা বাদ গেলে ঋনাত্মক।
এতক্ষন আমার এক বন্ধু, দর্শন পড়ায়,শুনছিল।
সে বলে উঠল "তার মানে তুই বলতে চাস
'শুন্য মানে পুর্ণ?'"
এতো নাগার্জুনের শুন্যবাদ আর অদ্বৈত বেদান্ত এক করে দিলি।
"ঠিক, একজন আধগেলাস জলকে বলে আধগেলাস জল পুর্ন, অপর জন বলে আধগেলাস জল শুন্য।
একজন বলে তিনি পুর্ন তিনি সৎ চিৎ আনন্দ, অপর জন বলে তিনি 'শুন্য' কারন নিরপেক্ষ সত্যে বদল নেই, তাই 'সময়' নেই,  তাই সৎ বা চিরকালের কিছুই নেই,কালই নেই তার চিরকাল। চৈতন্য তখনি সম্ভব যখন দিত্ব আছে, আর আনন্দ তখনি সম্ভব যখন দুঃখ আছে। তবে এই শুন্য মানে কিছু নেই ভাবলে ভুল দিকে বিশাক্ত সাপ ধরা হয়ে যাবে।"
ব্রাভো! তুই তো দারুন বলেছিস।
আরে আমি কি আর বলেছি আজকেই ইউটিউবে এক মহারাজের শুন্যবাদ সন্মন্ধে একটা বক্তব্য শুনেছি, আর আমার মত করে বলেছি। সবাই একই কথা বলেছে, যে যার নিজের মত করে।

ব্যাপারটা বোধহয় ভীষন হিং টিং ছট হয়ে গেল।

-ঃঅত্রি গুহার গর্তঃ-

অনেকদিন আগে, ২০০০ সালে আমরা একবার,পঞ্চকেদার করব বলে বেরিয়ে ছিলাম। ইচ্ছে ছিল, কলপেশ্বর,রুদ্রনাথ,তুঙ্গনাথ আর মদমহেশ্বর যাবার, কেদারনাথ আগেই গিয়েছি।তাহলে পঞ্চকেদার সম্পুর্ন হয়। যখন ভেবেছি তখনই হিমালয় পথিক উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এর বইয়ে পডলাম যে উনি যখন কল্পেশ্বর গিয়েছিলেন তখন দেখেছিলেন এক সাধুবাবা
রুদ্রনাথ থেকে দুমক গ্রাম হয়ে কল্পেশ্বর এলেন।ওই পথে দেবগ্রামের কিছু লোক রুদ্রনাথ গিয়েছেন। আমার মাথায় ঢুকে গেল ওই পথে ই যাওয়ার কথা। ভাবলাম দেবগ্রামে গিয়ে একবার চেষ্টা করব, যদি না হয় তবে মন্ডল দিয়ে যাব। খবর নিতে আর ফেদার স্লিপিং ব্যাগ ভাড়া নিতে গেলাম ভরুকা ট্রাস্ট।  সেই সময় ভরুকা খুব পপুলার ছিল, তারা তো সুনে বলে "আপনারা পাগল হয়েছেন? দুমক গ্রামে কিছুই নেই রাতে থাকার মত। জংলী জন্তুর ভয় আছে।ও চেষ্টাও করবেন না।কিন্তু চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনি।
যাব যখন ভবেছি তখনি যাবই।ফেদারস্লিপিং ব্যাগভড়া নিয়ে হাঁটা। সেই ট্রেক আমার জীবনের এক শ্মরনীয় ট্রেক। আমরা তিন বন্ধু, তিনজনের বৌ আর দুই বন্ধুর এক ছেলে ও এক মেয়ে।পুরো যাত্রার গল্প বন্ধুবর ভাস্কর ফেসবুকে আর "স্মৃতির উজান বেয়ে" পেজএ খুব সুন্দর করে লিখেছে।কারো ইচ্ছে হলে পড়তে পারেন। (ফেসবুকে সার্চে down memory lane by bhaskar chowdhury  লিখলেই পাবেন) আমরা দুমক গিয়ে দেখলাম সেখানে ইস্কুল আছে, ওখানেই ছিলাম। কয়েকটা বাড়িতে সোলার লাইটও আছে।
আমার গল্প অন্য, কল্পেশ্বর থেকে দুমক পানার হয়ে রুদ্রনাথ দর্শন করে নেমে এসেছিলাম "অনসুয়া" ছিলাম অনসুয়া মাতার মন্দিরে। কদিনের লম্বা ট্রেক,বিভিন্ন প্রতিকুলতার মধ্যে অসম্ভব আনন্দ ছিল। রাত্রে মন্দিরে ঘুমিয়ে সকালে আমরা গেলাম অত্রি গুহা আর অমৃত গঙ্গা দর্শন, স্পর্শন করতে, রাস্তায় এক যায়গায় ভেঙে গিয়েছিল, ইন্দর, আমদের পোর্টার কাম গাইড গাছের গুঁড়ি দিয়ে রাস্তা বানিয়ে আমাদের নিয়ে গিয়ে ছিল। অত্রিমুনির গুহাটি অরন্যদেবের গুহার মতন এক অমৃত গঙ্গার প্রপাতের পিছনে। আর সেই গুহায় যাবার আর ফেরার পথ আলাদা। যাবার সময় একটা পাথুরে দেওয়াল বেয়ে উঠে একটা পাথরের গর্ত গলে গেলেই গিয়ে পড়ে গুহায়। আমি আর ইন্দর সবার বারন সত্ত্বেও গর্ত গলে৷ গুহায় গিয়ে পডলাম।  গুহার পেছন দিকে আর একটা গর্ত,।
ইন্দরকে জিজ্ঞাসা করলাম ওটা কি? ও যেন কিরকম অস্বস্তিতে পড়ে গেল, বলল ও কিছুনা, ওর মধ্যে উঁকি দিওনা, চল আমরা বেরিয়ে যাই।
আমি বললাম কেন? ওতে কি আছে দেখিনা ওটা দিয়ে কোথায় যাওয়া যায়। ইন্দর প্রায় আঁতকে উঠল, 
"না না এরকম করবেন না, কেউ ওটা দিয়ে যায়না"।
"কেন?"
" আরে ওসব শুনবেন না চলুন"। 
"না, না বললে আমি যাবইনা।"
"কি মুস্কিল, ওর মধ্যে অত্রিমুনির সাধনার ধন আছে,যে ওই গর্ত গলে গিয়েছে কেউ ফিরে আসেনি"
"তাহলে তো৷ দেখতেই হয়"
বলেই আমি একলাফে মাথা থেকে কোমর অব্ধি ঢুকিয়ে দিলাম গর্তে আর সঙ্গে সঙ্গে অদ্ভুত অনুভুতি  হল। আর মনে নেই।
চোখ খুলতেই দেখি, আমি গুহার মাটিতে শুয়ে। ইন্দর আমায় জলের ছিটে দিচ্ছে আর ঝাঁকুনি    দিচ্ছে।
"চলুন, এখুনি চলুন, আমি যদি তক্ষুনি  আপনার পা টা ধরে বারকরে নিয়ে না আসতাম, তাহলে কি হত?  কি উত্তর দিতাম আমি বাকিদের।আসতে হলে একলা আসবেন, আর কোনদিন ফিরবেন না।আমার সাথে নয়।"
আমি কিরকম সন্মোহিতের মত ইন্দরের পিছু নিই। ঝরনার পাসদিয়ে বেরিয়ে আসি।ইন্দর কে বলতে থাকি " আমি যাব, আবার যাব, ওরা তো আমাদের বেরোতে দেখেছে, তোমাকে কিছু বলতে পারবে না।" ইন্দর আমার হাত ধরে টানতে থাকে।আর আমি চ্যাঁচাতে থাকি, "...... ও রানাকাকা তুমি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে গোঁ গোঁ করছ কেন, ওঠো ইন্দর চা করেছে, আমাদের মন্ডলের জন্য বেরোতে হবে।
আরে! আমি তো অনসুয়া তে।কাল তো গিয়েছিলাম অত্রি গুহায়,এখন তো সকাল। সহেলী আমাকে ডেকে তুলল,। তাহলে কি কাল অত্রিগুহাতে আমি গিয়েই বেরিয়ে এসেছিলাম,বাকিটা স্বপ্ন।
আমি জিজ্ঞেস করি "আমি কাল কতক্ষন অত্রিগুহায় ছিলাম রে?"
"এই মিনিট পাঁচেক"
"অ, চল চা খাই, তুই যা আমি মুখটা ধুয়ে আসছি।"
মনে করার চেষ্টা করলাম মনে করতে, যখন কোমর অবধি ঢুকিয়ে দিয়েছিলাম তখন কি হয়েছিল?
মনে হল আমি আর নেই, কিম্বা কেবল আমিই আছি, আর কিছুই নেই। অবস্থাটা কি আছে দিয়ে বোঝান যাবেনা, বলা যেতে পারে কি নেই,সুর্য নেই, চন্দ্র নেই, বায়ু নেই, আরম্ভ নেই শেষ নেই, কোন তফাৎ নেই,সময় বলে কিছু নেই,কোন পুনরাবর্তন নেই,  আছে শুধু অস্তিত্ব, একটা অদ্ভুত অনুভুতি, আর সব কিছুর সাথে একত্তের, নিরাকার চৈতন্যের অনুভব।কোমর অবধি ধুকতেই জগৎ মিলিয়ে গেল, আলাদা আলাদা বস্তু আর আমি সব এক হয়ে গেল।
বেশতো মনে পড়ছে, কিন্তু  এত সব কিকরে পাঁচ মিনিটে হতে পারে? কিন্তু সেই অনুভবটা তো ঠিক।
কি জানি,
তাহলে বোধহয় স্বপ্নই হবে।
আপনারা কি বলেন?
।।আশীষ ঘোষাল।। 

-ঃবরফ গুহাঃ-

এই বুড়ো একবার ইউরোপ গিয়েছিল বেড়াতে,কক্স এন্ড কিংস এর সাথে।প্রথমে আমরা রানীর দেশে বুড়িছুয়ে, কোহিনুর, মাদাম ভুষো না সরি তুষো, ট্রাফাল্গার স্কোয়্যার, ইত্যাদি দেখে একবারে জাহাজে। সকালে উঠতেই নাবাল জমি,মানে নেদারল্যাড। সেথায় মধুরধাম দেখে, মানে মাদুরাদাম দেখে নেদারল্যান্ডস হাওয়াকল, চিজ ক্রখানা ঘুরে আমরা এলাম আর্মস্টারডাম।সেখানে নৌকাবিহার করে বাসে করে ব্রাসেলস।সেখানে বুড়ী ছুয়ে,পরের দিন প্যারিস। প্যারিসে খানিক ঘুরে বুলেট ট্রেনে উঠব বলে স্টেশন।
যাইহোক ট্রেন পৌঁছাল জুঙ্গফ্রাউ স্টেশনে. আমরা দেখতে গেলাম বরফের রাজত্ব আর গেলাম আইস প্যালেস দেখতে. বরফের টানেল, বরফের মূর্তি, বরফের কি নেই. আমরা তারমধ্যে ঘুরলাম ছবি তুল্লাম, পুরটাই গ্লেসিয়ারের বরফ ফিয়ে তৈরী , লোকের গরমে কোথাও- কোথাও একটু গলে যাচ্ছে , রোজ এই বরফের মূর্তি ও টানেলের রক্ষনাবেক্ষন করতে হয়. ১৯৩৪ সালে এই বরফ গুহা তৈরী করা শুরু হয়. মোট ১০০০ স্ক্য়ার মিটার. এটা গ্লেসিয়ারের মধ্যে বলে গুহাটা বছরে প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত নড়ে যায়. সেখান থেকে যখন বেরলাম, মনে মনে বললাম এতবড় গুহা, এত মুর্তি, চেয়ার টেবিল,সোফা, কি নেই কিন্তু সবই জল মানে বরফ, পয়সাটা জলেই গেল।
একজন বলল এখানে সবকিছুতেই জল/ বরফ আছে, আর একজন বলল, এখানে জল / বরফ ছাড়া কিছুই নেই। কে ঠিক? দুজনেই।
যেমন সবকিছুতেই ভগবান (ব্রহ্ম) আছেন, আর জগতে ভগবান(ব্রহ্ম) ছাড়া আর কিছুই নেই।
***
তার পরে সেই আসবে ফিরে আমড়াতলার মোড়ে, তারপরে যাও যথায় খুসি জ্বালিও নাকো মোরে।
***
।।আশীষ ঘোষাল।।
















Aug 5, 2022

।।অথ হনুমান উবাচ।।

তারে ধরি ধরি মনে করিঃ-
*******
সেদিন সকালে চন্দন ফোন করেছে " আরে তোকে সেদিন একটা রচনা পড়িয়ে ছিলাম না,৷ তুই বলেছিলি ইন্টারেস্টিং,  সেই পাগলা ছেলেটা এবার ক্লাসটেস্টে একটা ব্যাখ্যা লিখেছে।একদিন পড়াব" শুনে থেকে ভাবছি যাব যাব কিন্তু যাওয়া আর হয় না। গতকাল ছুটির দিন সকাল বেলাই হাঁটতে বেরিয়ে চলে গেলাম। জনান্তিকে বলে রাখি, আমার জানাই ছিল যে রবিবার সকালের জলখাবারটা চন্দনের বাড়ি লুচি তরকারিই হয়ে থাকে। বাইরের ঘরে চন্দন বসে খবরের কাগজ পড়ছিল, আমাকে দেখেই হাঁক দিল " বৌমা দুকাপ চা" আমি বললাম "তোর দুকাপ চা বলায় মনে পড়ে গেল, বল দেখি একদিন শ্যামবাজার পাঁচমাথা থেকে সন্ধ্যা বেলায় হাতিবাগানের দিকে যাচ্ছি দেখি একটা বাড়ির মাথায় নিয়ন সাইনে লেখা '  তের কাপ    নুন', বল দেখি আসলে ওটা কিসের বিজ্ঞাপন? 
ব্যাটা তুই মাস্টারের পরিক্ষা নিচ্ছিস? আমি জানি কারন আমি দিনের বেলায় ওটা দেখেছি। ওটা হল "তাঁতের কাপড় কিনুন"।  ভাল বলেছিস তো, তার মানে অজ্ঞানের সন্ধ্যাকালে নিয়ন সাইনে যেটা 'তের কাপ নুন' দিনের আলোয় বা জ্ঞাণের আলোয় সেটা 'তাঁতের কাপড় কিনুন'। "আরে তোর কি ওই পাগলা ছেলেটার ছোঁয়া লাগল? সবেতেই একটা অদ্ভুত মানে বার করছিস।" এই বলে একটা খাতা বেরকরল বলল পড়,  "আমি ক্লাসে মজাকরে ক্লাসটেস্টে একটা সবচিন বাউল গানের লাইন দিয়েছিলাম ব্যাখ্যা লিখতে। লাইন টা ছিল 'তারে ধরি ধরি  মনে করি, ধরতে গেলে আর পারিনা।' প্রথমে বললাম প্রথমে  পুরো গানটা একবার পড়ে তারপর লেখ। এই না বলে একটা প্রিন্ট আউটের কয়েকটা জেরক্স দিয়ে দিলাম।
এই বলে আমাকেও একটা জেরক্স কপি দিল।আমি পড়লাম,
*******
তারে ধরি ধরি মনে করি
ধরতে গেলেম আর পেলাম না। - ২

দেখেছি,
দেখেছি রূপসাগরে
মনের মানুষ কাঁচা সোনা। -২

বহু দিন ভাব তরঙ্গে
ভেসেছি কতই রঙ্গে, -২
সুজনের সঙ্গে হবে দেখা শুনা।

তারে আমার আমার মনে করি,
আমার হয়ে আর হইলো না
আমার আমার মনে করি,
আমার হয়ে আর হইলো না

দেখেছি,
দেখেছি রূপসাগরে
মনের মানুষ কাঁচা সোনা। -২

সে মানুষ চেয়ে চেয়ে
ফিরিতেছি পাগল হয়ে, - ২
মরমে জ্বলছে আগুন আর নেভে না।

আমায় বলে বলুক লোকে মন্দ,
বিরহে তার প্রাণ বাঁচে না
বলে বলুক লোকে মন্দ,
বিরহে তার প্রাণ বাঁচে না

দেখেছি,
দেখেছি রূপসাগরে
মনের মানুষ কাঁচা সোনা। -২

পথিক কয় ভেবো নারে
ডুবে যাও রূপসাগরে, -২
বিরলে বসে করো যোগ-সাধনা।

একবার ধরতে পেলে মনের মানুষ,
ছেড়ে যেতে আর দিও না
ধরতে পেলে মনের মানুষ,
ছেড়ে যেতে আর দিও না

দেখেছি,
দেখেছি রূপসাগরে
মনের মানুষ কাঁচা সোনা।- ২

তারে ধরি ধরি মনে করি
ধরতে গেলেম আর পেলেম না
ধরি ধরি মনে করি
ধরতে গেলেম আর পেলেম না

দেখেছি,
দেখেছি রূপসাগরে
মনের মানুষ কাঁচা সোনা। -২
*********
"বাকিরা তো ভয়ানক ব্যাখা লিখল, মনের মানুষ  মানে যাকে মনে ধরেছে, এই না বলে এমন ব্যাখ্যা লিখল, সে আর বলে কাজ নেই।
পাগলা কি লিখল তাই পড়, " এই না বলে খাতা ধরিয়ে দিল। আমি পড়তে লাগলাম।
######
এই গানটা বাউল অঙ্গের গান, আর বাউল রা যা লেখে বা গায় তার একটা অন্তুর্নিহিত অর্থ থাকে।এখানে 'রুপসাগর' আর 'মনের মানুষ' এই দুটো কথার অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝতে হবে। 
আমরা এই জগতে যা কিছু দেখি, জানি বা যা দিয়ে জগৎ তৈরি, সে সবকিছুরই একটা রুপ বা চেহারা আছে আর আছে একটা নাম।  যেমন আমি,আমার একটা চেহারা আছে,বা রুপ আছে,আর আছে একটা নাম। সেই রকম এই টেবিলটার ও একটা চারপাইয়া চেহারা আছে, আর আছে একটা নাম 'টেবিল'। আরো একটা আছে যাকে বলাযায় 'ব্যাবহার' যেটার এই ব্যাখ্যায়  দরকার নেই। এই জগৎ যদি সমুদ্র বা সাগর মনে করি তাহলে সে নাম-রুপ জগৎ হল 'রুপসাগর'।
এবার দেখা যাক 'মনের মানুষ ' কাকে মনে করা হয়েছে। বাউল এই রুপসাগরে একটা স্বত্তার উপস্থিথিতি অনুভব করেছেন, যা সবকিছুর মধ্যেই আছে বা যার মধ্যে সব কিছুই আছে,কিন্তু সে সত্তাকে ঠিক মত অনুভব করতে পারছেন না, কেবল মনের বা ধ্যানের গভীরে কিছু অনুভব করছেন,সেই ভাবে আশা করেছেন সেই সুজনের সংগে দেখা হবে। যেমন বিভিন্ন গয়নার বিভিন্ন নাম আছে, বালা,আংটি, হার আর আছে বিভিন্ন রুপ কিন্তু সব কটারই উপাদান কাঁচা সোনা। ঠিক সেই রকম এই নাম রুপ জগতের উপাদান 'মনের মানুষ ',যাকে চেষ্টা করেও বাউল কবি অনুভব করতে পারছেন না। তিনি বলছেন তাঁকে পাবার ইচ্ছায় জ্বলে মরে যাচ্ছেন, সেই অনুভবের বিরহে বা অভাবে তিনি পাগল হয়ে যাচ্ছেন, লোকে তাকে মন্দ বলছে কিন্তু তাতে কিছু আসে যায়না।
সেই অনুভবের পথিক, মানে সেই পথে যে গিয়েছে সে বলছে, চেষ্টা করে যাও,রুপ সাগরে ডুব দাও, সবকিছু থেকে আলাদা হয়ে চেষ্টা কর, আর একবার সেই মনের মানুষকে পেলে আর ছেড়ে দিওনা।
কিন্তু বাউল বলে কই সে মনের মানুষ, তাকে মাঝে মাঝে ধরে ফেলেছি মনে হয় কিন্তু  ধরে রাখা যায়না। 
ঠিক এই কথাটাই রবি বাউল লিখেছেনঃ- 
মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, চিরদিন কেন পাইনা।
কেন মেঘ আসে হৃদয় আকাশে তোমাকে দেখিতে দেয়না।
********
পড়ে আমি বললাম " এছেলে তো মারত্মক, কিছু না কিছু অদ্ভুত বলবেই, সবকিছুকেই সেই গরুর রচনা লেখার গল্পের মত একই যায়গায় এনে ফেলবে। তুই ওকে জিজ্ঞেস করিস তো রবিঠাকুরের হিং টং ছট কবিতায় গৌড়িয় কবি হিং টিং ছট এর যে ব্যাখ্যা দিয়ে ছিল " ত্রম্বকের ত্রিনয়ন ত্রিকাল ত্রিগুন....  ইত্যাদি -- এর কোন মানে আছেকি? নাকি কেবল হিং টিং ছট।

Aug 4, 2022

তখন কেন দিইনি তোমায়ঃ-

তারে ধরি ধরি মনে করিঃ-
*******
সেদিন সকালে চন্দন ফোন করেছে " আরে তোকে সেদিন একটা রচনা পড়িয়ে ছিলাম না,৷ তুই বলেছিলি ইন্টারেস্টিং,  সেই পাগলা ছেলেটা এবার ক্লাসটেস্টে একটা ব্যাখ্যা লিখেছে।একদিন পড়াব" শুনে থেকে ভাবছি যাব যাব কিন্তু যাওয়া আর হয় না। গতকাল ছুটির দিন সকাল বেলাই হাঁটতে বেরিয়ে চলে গেলাম। জনান্তিকে বলে রাখি, আমার জানাই ছিল যে রবিবার সকালের জলখাবারটা চন্দনের বাড়ি লুচি তরকারিই হয়ে থাকে। বাইরের ঘরে চন্দন বসে খবরের কাগজ পড়ছিল, আমাকে দেখেই হাঁক দিল " বৌমা দুকাপ চা" আমি বললাম "তোর দুকাপ চা বলায় মনে পড়ে গেল, বল দেখি একদিন শ্যামবাজার পাঁচমাথা থেকে সন্ধ্যা বেলায় হাতিবাগানের দিকে যাচ্ছি দেখি একটা বাড়ির মাথায় নিয়ন সাইনে লেখা '  তের কাপ    নুন', বল দেখি আসলে ওটা কিসের বিজ্ঞাপন? 
ব্যাটা তুই মাস্টারের পরিক্ষা নিচ্ছিস? আমি জানি কারন আমি দিনের বেলায় ওটা দেখেছি। ওটা হল "তাঁতের কাপড় কিনুন"।  ভাল বলেছিস তো, তার মানে অজ্ঞানের সন্ধ্যাকালে নিয়ন সাইনে যেটা 'তের কাপ নুন' দিনের আলোয় বা জ্ঞাণের আলোয় সেটা 'তাঁতের কাপড় কিনুন'। "আরে তোর কি ওই পাগলা ছেলেটার ছোঁয়া লাগল? সবেতেই একটা অদ্ভুত মানে বার করছিস।" এই বলে একটা খাতা বেরকরল বলল পড়,  "আমি ক্লাসে মজাকরে ক্লাসটেস্টে একটা সবচিন বাউল গানের লাইন দিয়েছিলাম ব্যাখ্যা লিখতে। লাইন টা ছিল 'তারে ধরি ধরি  মনে করি, ধরতে গেলে আর পারিনা।' প্রথমে বললাম প্রথমে  পুরো গানটা একবার পড়ে তারপর লেখ। এই না বলে একটা প্রিন্ট আউটের কয়েকটা জেরক্স দিয়ে দিলাম।
এই বলে আমাকেও একটা জেরক্স কপি দিল।আমি পড়লাম,
*******
তারে ধরি ধরি মনে করি
ধরতে গেলেম আর পেলাম না। - ২

দেখেছি,
দেখেছি রূপসাগরে
মনের মানুষ কাঁচা সোনা। -২

বহু দিন ভাব তরঙ্গে
ভেসেছি কতই রঙ্গে, -২
সুজনের সঙ্গে হবে দেখা শুনা।

তারে আমার আমার মনে করি,
আমার হয়ে আর হইলো না
আমার আমার মনে করি,
আমার হয়ে আর হইলো না

দেখেছি,
দেখেছি রূপসাগরে
মনের মানুষ কাঁচা সোনা। -২

সে মানুষ চেয়ে চেয়ে
ফিরিতেছি পাগল হয়ে, - ২
মরমে জ্বলছে আগুন আর নেভে না।

আমায় বলে বলুক লোকে মন্দ,
বিরহে তার প্রাণ বাঁচে না
বলে বলুক লোকে মন্দ,
বিরহে তার প্রাণ বাঁচে না

দেখেছি,
দেখেছি রূপসাগরে
মনের মানুষ কাঁচা সোনা। -২

পথিক কয় ভেবো নারে
ডুবে যাও রূপসাগরে, -২
বিরলে বসে করো যোগ-সাধনা।

একবার ধরতে পেলে মনের মানুষ,
ছেড়ে যেতে আর দিও না
ধরতে পেলে মনের মানুষ,
ছেড়ে যেতে আর দিও না

দেখেছি,
দেখেছি রূপসাগরে
মনের মানুষ কাঁচা সোনা।- ২

তারে ধরি ধরি মনে করি
ধরতে গেলেম আর পেলেম না
ধরি ধরি মনে করি
ধরতে গেলেম আর পেলেম না

দেখেছি,
দেখেছি রূপসাগরে
মনের মানুষ কাঁচা সোনা। -২
*********
"বাকিরা তো ভয়ানক ব্যাখা লিখল, মনের মানুষ  মানে যাকে মনে ধরেছে, এই না বলে এমন ব্যাখ্যা লিখল, সে আর বলে কাজ নেই।
পাগলা কি লিখল তাই পড়, " এই না বলে খাতা ধরিয়ে দিল। আমি পড়তে লাগলাম।
######
এই গানটা বাউল অঙ্গের গান, আর বাউল রা যা লেখে বা গায় তার একটা অন্তুর্নিহিত অর্থ থাকে।এখানে 'রুপসাগর' আর 'মনের মানুষ' এই দুটো কথার অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝতে হবে। 
আমরা এই জগতে যা কিছু দেখি, জানি বা যা দিয়ে জগৎ তৈরি, সে সবকিছুরই একটা রুপ বা চেহারা আছে আর আছে একটা নাম।  যেমন আমি,আমার একটা চেহারা আছে,বা রুপ আছে,আর আছে একটা নাম। সেই রকম এই টেবিলটার ও একটা চারপাইয়া চেহারা আছে, আর আছে একটা নাম 'টেবিল'। আরো একটা আছে যাকে বলাযায় 'ব্যাবহার' যেটার এই ব্যাখ্যায়  দরকার নেই। এই জগৎ যদি সমুদ্র বা সাগর মনে করি তাহলে সে নাম-রুপ জগৎ হল 'রুপসাগর'।
এবার দেখা যাক 'মনের মানুষ ' কাকে মনে করা হয়েছে। বাউল এই রুপসাগরে একটা স্বত্তার উপস্থিথিতি অনুভব করেছেন, যা সবকিছুর মধ্যেই আছে বা যার মধ্যে সব কিছুই আছে,কিন্তু সে সত্তাকে ঠিক মত অনুভব করতে পারছেন না, কেবল মনের বা ধ্যানের গভীরে কিছু অনুভব করছেন,সেই ভাবে আশা করেছেন সেই সুজনের সংগে দেখা হবে। যেমন বিভিন্ন গয়নার বিভিন্ন নাম আছে, বালা,আংটি, হার আর আছে বিভিন্ন রুপ কিন্তু সব কটারই উপাদান কাঁচা সোনা। ঠিক সেই রকম এই নাম রুপ জগতের উপাদান 'মনের মানুষ ',যাকে চেষ্টা করেও বাউল কবি অনুভব করতে পারছেন না। তিনি বলছেন তাঁকে পাবার ইচ্ছায় জ্বলে মরে যাচ্ছেন, সেই অনুভবের বিরহে বা অভাবে তিনি পাগল হয়ে যাচ্ছেন, লোকে তাকে মন্দ বলছে কিন্তু তাতে কিছু আসে যায়না।
সেই অনুভবের পথিক, মানে সেই পথে যে গিয়েছে সে বলছে, চেষ্টা করে যাও,রুপ সাগরে ডুব দাও, সবকিছু থেকে আলাদা হয়ে চেষ্টা কর, আর একবার সেই মনের মানুষকে পেলে আর ছেড়ে দিওনা।
কিন্তু বাউল বলে কই সে মনের মানুষ, তাকে মাঝে মাঝে ধরে ফেলেছি মনে হয় কিন্তু  ধরে রাখা যায়না। 
ঠিক এই কথাটাই রবি বাউল লিখেছেনঃ- 
মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, চিরদিন কেন পাইনা।
কেন মেঘ আসে হৃদয় আকাশে তোমাকে দেখিতে দেয়না।
********
পড়ে আমি বললাম " এছেলে তো মারত্মক, কিছু না কিছু অদ্ভুত বলবেই, সবকিছুকেই সেই গরুর রচনা লেখার গল্পের মত একই যায়গায় এনে ফেলবে। তুই ওকে জিজ্ঞেস করিস তো রবিঠাকুরের হিং টং ছট কবিতায় গৌড়িয় কবি হিং টিং ছট এর যে ব্যাখ্যা দিয়ে ছিল " ত্রম্বকের ত্রিনয়ন ত্রিকাল ত্রিগুন....  ইত্যাদি -- এর কোন মানে আছেকি? নাকি কেবল হিং টিং ছট।

তারে ধরি ধরি মনে করিঃ-

তারে ধরি ধরি মনে করিঃ-
*******
সেদিন সকালে চন্দন ফোন করেছে " আরে তোকে সেদিন একটা রচনা পড়িয়ে ছিলাম না,৷ তুই বলেছিলি ইন্টারেস্টিং,  সেই পাগলা ছেলেটা এবার ক্লাসটেস্টে একটা ব্যাখ্যা লিখেছে।একদিন পড়াব" শুনে থেকে ভাবছি যাব যাব কিন্তু যাওয়া আর হয় না। গতকাল ছুটির দিন সকাল বেলাই হাঁটতে বেরিয়ে চলে গেলাম। জনান্তিকে বলে রাখি, আমার জানাই ছিল যে রবিবার সকালের জলখাবারটা চন্দনের বাড়ি লুচি তরকারিই হয়ে থাকে। বাইরের ঘরে চন্দন বসে খবরের কাগজ পড়ছিল, আমাকে দেখেই হাঁক দিল " বৌমা দুকাপ চা" আমি বললাম "তোর দুকাপ চা বলায় মনে পড়ে গেল, বল দেখি একদিন শ্যামবাজার পাঁচমাথা থেকে সন্ধ্যা বেলায় হাতিবাগানের দিকে যাচ্ছি দেখি একটা বাড়ির মাথায় নিয়ন সাইনে লেখা '  তের কাপ    নুন', বল দেখি আসলে ওটা কিসের বিজ্ঞাপন? 
ব্যাটা তুই মাস্টারের পরিক্ষা নিচ্ছিস? আমি জানি কারন আমি দিনের বেলায় ওটা দেখেছি। ওটা হল "তাঁতের কাপড় কিনুন"।  ভাল বলেছিস তো, তার মানে অজ্ঞানের সন্ধ্যাকালে নিয়ন সাইনে যেটা 'তের কাপ নুন' দিনের আলোয় বা জ্ঞাণের আলোয় সেটা 'তাঁতের কাপড় কিনুন'। "আরে তোর কি ওই পাগলা ছেলেটার ছোঁয়া লাগল? সবেতেই একটা অদ্ভুত মানে বার করছিস।" এই বলে একটা খাতা বেরকরল বলল পড়,  "আমি ক্লাসে মজাকরে ক্লাসটেস্টে একটা সবচিন বাউল গানের লাইন দিয়েছিলাম ব্যাখ্যা লিখতে। লাইন টা ছিল 'তারে ধরি ধরি  মনে করি, ধরতে গেলে আর পারিনা।' প্রথমে বললাম প্রথমে  পুরো গানটা একবার পড়ে তারপর লেখ। এই না বলে একটা প্রিন্ট আউটের কয়েকটা জেরক্স দিয়ে দিলাম।
এই বলে আমাকেও একটা জেরক্স কপি দিল।আমি পড়লাম,
*******
তারে ধরি ধরি মনে করি
ধরতে গেলেম আর পেলাম না। - ২

দেখেছি,
দেখেছি রূপসাগরে
মনের মানুষ কাঁচা সোনা। -২

বহু দিন ভাব তরঙ্গে
ভেসেছি কতই রঙ্গে, -২
সুজনের সঙ্গে হবে দেখা শুনা।

তারে আমার আমার মনে করি,
আমার হয়ে আর হইলো না
আমার আমার মনে করি,
আমার হয়ে আর হইলো না

দেখেছি,
দেখেছি রূপসাগরে
মনের মানুষ কাঁচা সোনা। -২

সে মানুষ চেয়ে চেয়ে
ফিরিতেছি পাগল হয়ে, - ২
মরমে জ্বলছে আগুন আর নেভে না।

আমায় বলে বলুক লোকে মন্দ,
বিরহে তার প্রাণ বাঁচে না
বলে বলুক লোকে মন্দ,
বিরহে তার প্রাণ বাঁচে না

দেখেছি,
দেখেছি রূপসাগরে
মনের মানুষ কাঁচা সোনা। -২

পথিক কয় ভেবো নারে
ডুবে যাও রূপসাগরে, -২
বিরলে বসে করো যোগ-সাধনা।

একবার ধরতে পেলে মনের মানুষ,
ছেড়ে যেতে আর দিও না
ধরতে পেলে মনের মানুষ,
ছেড়ে যেতে আর দিও না

দেখেছি,
দেখেছি রূপসাগরে
মনের মানুষ কাঁচা সোনা।- ২

তারে ধরি ধরি মনে করি
ধরতে গেলেম আর পেলেম না
ধরি ধরি মনে করি
ধরতে গেলেম আর পেলেম না

দেখেছি,
দেখেছি রূপসাগরে
মনের মানুষ কাঁচা সোনা। -২
*********
"বাকিরা তো ভয়ানক ব্যাখা লিখল, মনের মানুষ  মানে যাকে মনে ধরেছে, এই না বলে এমন ব্যাখ্যা লিখল, সে আর বলে কাজ নেই।
পাগলা কি লিখল তাই পড়, " এই না বলে খাতা ধরিয়ে দিল। আমি পড়তে লাগলাম।
######
এই গানটা বাউল অঙ্গের গান, আর বাউল রা যা লেখে বা গায় তার একটা অন্তুর্নিহিত অর্থ থাকে।এখানে 'রুপসাগর' আর 'মনের মানুষ' এই দুটো কথার অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝতে হবে। 
আমরা এই জগতে যা কিছু দেখি, জানি বা যা দিয়ে জগৎ তৈরি, সে সবকিছুরই একটা রুপ বা চেহারা আছে আর আছে একটা নাম।  যেমন আমি,আমার একটা চেহারা আছে,বা রুপ আছে,আর আছে একটা নাম। সেই রকম এই টেবিলটার ও একটা চারপাইয়া চেহারা আছে, আর আছে একটা নাম 'টেবিল'। আরো একটা আছে যাকে বলাযায় 'ব্যাবহার' যেটার এই ব্যাখ্যায়  দরকার নেই। এই জগৎ যদি সমুদ্র বা সাগর মনে করি তাহলে সে নাম-রুপ জগৎ হল 'রুপসাগর'।
এবার দেখা যাক 'মনের মানুষ ' কাকে মনে করা হয়েছে। বাউল এই রুপসাগরে একটা স্বত্তার উপস্থিথিতি অনুভব করেছেন, যা সবকিছুর মধ্যেই আছে বা যার মধ্যে সব কিছুই আছে,কিন্তু সে সত্তাকে ঠিক মত অনুভব করতে পারছেন না, কেবল মনের বা ধ্যানের গভীরে কিছু অনুভব করছেন,সেই ভাবে আশা করেছেন সেই সুজনের সংগে দেখা হবে। যেমন বিভিন্ন গয়নার বিভিন্ন নাম আছে, বালা,আংটি, হার আর আছে বিভিন্ন রুপ কিন্তু সব কটারই উপাদান কাঁচা সোনা। ঠিক সেই রকম এই নাম রুপ জগতের উপাদান 'মনের মানুষ ',যাকে চেষ্টা করেও বাউল কবি অনুভব করতে পারছেন না। তিনি বলছেন তাঁকে পাবার ইচ্ছায় জ্বলে মরে যাচ্ছেন, সেই অনুভবের বিরহে বা অভাবে তিনি পাগল হয়ে যাচ্ছেন, লোকে তাকে মন্দ বলছে কিন্তু তাতে কিছু আসে যায়না।
সেই অনুভবের পথিক, মানে সেই পথে যে গিয়েছে সে বলছে, চেষ্টা করে যাও,রুপ সাগরে ডুব দাও, সবকিছু থেকে আলাদা হয়ে চেষ্টা কর, আর একবার সেই মনের মানুষকে পেলে আর ছেড়ে দিওনা।
কিন্তু বাউল বলে কই সে মনের মানুষ, তাকে মাঝে মাঝে ধরে ফেলেছি মনে হয় কিন্তু  ধরে রাখা যায়না। 
ঠিক এই কথাটাই রবি বাউল লিখেছেনঃ- 
মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, চিরদিন কেন পাইনা।
কেন মেঘ আসে হৃদয় আকাশে তোমাকে দেখিতে দেয়না।
********
পড়ে আমি বললাম " এছেলে তো মারত্মক, কিছু না কিছু অদ্ভুত বলবেই, সবকিছুকেই সেই গরুর রচনা লেখার গল্পের মত একই যায়গায় এনে ফেলবে। তুই ওকে জিজ্ঞেস করিস তো রবিঠাকুরের হিং টং ছট কবিতায় গৌড়িয় কবি হিং টিং ছট এর যে ব্যাখ্যা দিয়ে ছিল " ত্রম্বকের ত্রিনয়ন ত্রিকাল ত্রিগুন....  ইত্যাদি -- এর কোন মানে আছেকি? নাকি কেবল হিং টিং ছট।

Jul 28, 2022

।।আপনা কে মোর জানা।।



রমন মহোর্ষি র একটা চালু গল্প।

****

একদিন এক ভক্ত এসে খুব কিন্তু কিন্তু করে জিজ্ঞাসা করল,মহারাজ একটা কথা বলার ছিল কিন্তু সাহস পাচ্ছিনা। বলব?

বল,

দেখুন মহারাজ আমি আমি কে? এর উত্তরে খুব একটা আগ্রহী নই, আমি নিজেকে জানার চেয়ে তাঁকে জানতে চাই। আমি ভক্তি পথের পথিক, ভগবান কে ভালবাসি,ভক্তি করি, সেবাকরি, কোন খারাপ কাজ করিনা,রোজ নারায়ন সেবা না করে অন্নগ্রহণ করিনা। মহারাজ আপনি আমাকে বলুন যে এইরকম জীবন যাপন করলে কি মৃত্যুর পর আমার গোলোকধাম প্রাপ্তি হবে?

মহারাজ বললেন “হবে”।

ভক্ত তো মহা খুশি বলে ” মহারাজ গোলোকধামে আমি গোলকপতির দর্শন পাব? 

মহারাজ বললেন “পাবে”।

ভক্তের খুশি আর ধরেনা, জিজ্ঞাসা করে ” মহারাজ আমি যখন তাঁর দর্শন পাব তখন তিনি আমাকে কি বলবেন?

বলবেন ” আত্মনাং বিদ্ধি। নিজেকে জান।"

।।আশীষ ঘোষাল।।

।।জলের আত্মজীবনী।।

।।জলের আত্মজীবনী।। 
******
আমার এক বন্ধু চন্দন ইস্কুলে বাঙলা পডায়। একদিন ওদের বাড়ি গেছি, দেখি খাতা দেখছে।আমি গিয়ে বসতে ওর বৌমা চা বিস্কুট দিয়ে গেল। 
বলেগেল আগে চা টা খান, তারপর লুচি আর সাদা আলুর চচ্চড়ি হচ্ছে আপনাকে আর বাবাকে দিয়ে যাব। বাবার চা খাওয়া হয়ে গেছে।
বৌমা চলে যেতে, চন্দন বান্ডিলের বাইরে রাখা একটা খাতা নিয়ে আমার হাতে দিল। বলল আমাদের ঈস্কুলে একটা ছেলে আছে, একটু পাগলা গোছের কিন্তু একদম অন্যরকম ভাবতে পারে, লেখেও ভাল, কিন্তু ভয়ানক বানান ভুল লেখে। এবার পরিক্ষায় রচনা দিয়েছিলাম "জলের আত্মজীবনী", কি লিখেছে দেখ, বানান দেখিস না কারন আমি জানি বানানে তুইও ওই ছেলেটারই মত। বিষয় হিসাবে তুই দশে কত দিবি?
আমি খাতা খুলে পড়তে সুরু করলাম।
*****
আমি জল, আমার অপর নাম জীবন। আমার কোন রং নেই, গন্ধ নেই, স্বাদ নেই, আকার নেই,মানে যে পাত্রে থাকি আমার আকারও তার মতই হয়। আমি কখনও বরফ, কখনও বাস্প, কখনও মেঘ, কখনও বৃষ্টি,কখনও নদী  কখনও সমুদ্র,  কখনও ঝিল কখনও পুকুর কখনও ঢেউ কখনও ঘুর্ণি, আমি যত জীব আছে তার  একটা প্রধান অংশ।  সব মানুষের প্রায় সত্তর ভাগ আমি।
এই পৃথিবীতে  আমার জন্ম প্রায় পৃথিবীরই সাথে। যখন সুর্য থেকে একটা অংশ ছিটকে এসে টুকরো  টুকরো  হয়ে সুর্যকে প্রদক্ষিণ করতে লাগল, তখন সুর্যের দিক থেকে তৃতীয় টুকরো টা, যেটা আজকের পৃথিবী, ক্রমে ঠান্ডা হতে থাকল। তখন আমি ছিলাম আমার দুই মৌলিক উপাদান হাইড্রোজেন  আর অক্সিজেন হিসেবে। পৃথিবী খানিক ঠান্ডা হতেই হাইড্রোজেন আর অক্সিজেন মিলে তৈরি হলাম আমি। তখন পৃথিবী খুব গরম তাই আমি ছিলাম বাস্প হয়ে পৃথিবীর চারপাস ঘিরে। আস্তে আস্তে পৃথিবী নামের গরম তরলের গোলা ঠান্ডা হতে থাকল,  তরল গোলার ওপোর জমে যাওয়া তরলের সরের মত আস্তরন পড়তে লাগল। ক্রমে আস্তরন মোটা হতে থাকল,  আর সেই মোটা আস্তরনের ভিতর টা ঠান্ডা হওয়ার হার কমতে লাগল, আর আস্তরনের ওপরটা ঠান্ডা হতে লাগল তাড়াতাড়ি কিন্তু ভিতর টা গরম , এই ঠান্ডা গরমের ফলে আস্তরন টা কুঁচকে যেতে থাকল,  কোথাও খুব উঁচু কোথাও খুব নিচু কোথাওবা সমতল। ইতিমধ্যে গরম কমায় আমার অনু গুলোর ছোটাছুটি কমল আর অনেকে মিলে তৈরি করল ছোট ছোটো কনা আর কনাগুলো পাশাপাশি হয়ে তৈরি করল মেঘ।  আর একটু ঠান্ডা হতেই সুরু হল বৃষ্টি,  আমি পৃথিবীর পিঠে সব নিচু যায়গা ভরে দিয়ে তৈরি কোরলাম সমুদ্রে আর হ্রদ। খুব উঁচু হওয়া যায়গা হল পাহাড়। পাহাড়ের ওপর পড়ে জমে গিয়ে আমি বরফ হলাম। আর সুর্যের আলোয় গলে গলে যেখানে নিচু পেলাম সেখান দিয়েই বইতে লাগলাম, হয়ে গেলাম নদী। বইতে বইতে নদী সমুদ্রে এসে পড়ে। সমুদ্র হোক বা নদী,  বাস্প হোক বা বরফ, আসলে আমি জল - কিকরে আমার এই জ্ঞান হল সেই গল্প বলি।
একবার সমুদ্রে এক বিরাট ঢেউ উঠল, আমি ভাবলাম আমি ওই ঢেউ, আসে পাসে অনেক  ছোট মেজ ঢেউ ছিল তাদের সাথে চলতে থাকলাম। কারুর সাথে বন্ধুত্ত হল, কারুর সাথে শত্রুতা, মনে হল আমি কত বড়, কেউ আমাকে ভালবাসল কেউ বড় বলে হিংসা করল। এই রকম করে চলছিল, হঠাৎ একসময় দেখলাম সাগরের পাড় আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে, মনে হল আর কিছু বাদেই তো আমি আর আমার সাথে ছোট বড় সব ঢেউই মাটিতে আছড়ে পড়বে আর সব ঢেউ, ঢেউ থাকবেনা।খুব ভয় করতে লাগলো, দুঃখ হল, কিন্তু যা ভাবছিলাম তাই হল, সবাই মাটিতে আছড়ে পড়ে আর আলাদা আলাদা ঢেউ থাকলাম না সবাই জল হয়ে সমুদ্রে মিশে গেলাম, তখন চৈতন্য হল আমি আসলে জল, কোন ঢেউ নয়। তার পর অনেক বার ঘুরেছি,  কখনও বাস্প হয়ে মেঘ হয়েছি, বৃষ্টি, হয়েছি, বরফ হয়েছি,  গলে নদী হয়ে বয়ে গেছি সাগরে। নাম যাই হোক আমি আসলে জল তাই এখন আর নিজেকে ঢেউ,  নদী, বাস্প বা বরফ ভাবিনা,  আর চেহারা বদলে যাবে জেনে ভয় বা দুঃখও পাইনা।
*********
এই রকমই জলের আত্মজীবনী। 
*********
পড়ে আমি ভাবলাম এ তো বেদান্তের কথা। যদি ঢেউ, বা নদী কে জিবাত্মা ভাবি, সমুদ্র কে ইশ্বর, তাহলে জল হল সৎচ্চীদানন্দ ব্রহ্ম।
********
আমিতো এই রচনায় কোন নম্বর দিতে পারিনি, আপনি দশে কত দেবেন?
########
।।আশীষ ঘোষাল।।

Jul 26, 2022

ঃঅনন্তঃ

ঃঃঅনন্তঃঃ
উৎসাহ পেয়ে পাগল লিখেই চলেছে, 
সত্যি বলছি, যাদের মাথা ঠিক আছে তাদের পড়ার দরকার নেই।
*****
ছেলেবেলায় আমি তখন ইস্কুলে পড়ি, আমি আর তাপস দুই বন্ধু বিজ্ঞান, কল্পবিজ্ঞান নিয়ে খুব উৎসাহিত ছিলাম।মাঝে মাঝেই আমরা আমাদের বিশ্বব্রহ্মাণ্ড নিয়ে খুব আলোচনা করতাম। অবাক হতাম এই ভেবে যে কেউ যদি ভীষন গতিতে সোজা উপরদিকে চলতে থাকে তবুও সেই যাত্রা  কোনদিন শেষ হবেনা।কিছুতেই ব্যাপারটা ঠিক মেনে নিতে পারছিলাম না আমরা শেষমেষ বললাম নিশ্চয় একদিন সে একটা পাঁচিলে গিয়ে ধাক্কা খাবে,সেখানেই শেষ হবে সেই যাত্রা।
তারপর কেটে গিয়েছে অনেক কাল কিন্তু আজও অনন্ত অধরা। 
একদিন নাতিবাবুকে জিজ্ঞাসা করি " বল দেখি এমন কিছু জানিস যার আরম্ভও নেই শেষও নেই"
নাতিবাবুর চটজলদি উত্তর " কেন?  সার্কেল"
আমি তো অবাক, ঠিকই তো  যা কিছু এক স্থান বা অবস্থা থেকে শুরু করে পরিবর্তন হতে হতে আবার  সেই একই স্থান বা অবস্থায় ফিরে আসে তার তো কোন শুরু বা শেষ নেই। তার মানে আমাদের দেখা এই জগতে অনন্ত কে কেবল পুনরাবর্তন দিয়েই বোঝান যায়। 
আমরা জানি যে আমাদের এই জগৎ কেবল আমাদের কাছেই সত্য কারন এই জগতের চেহারা আমাদের খবর দেবার যন্ত্রের ( ইন্দ্রিয়)  ওপর নির্ভরশীল। যেসব জীবের (প্রায় সব জীব) ইন্দ্রিয় আমাদের থেকে ভিন্ন তাদের কাছে জগতের চেহারা আমাদের দেখা জগতের থেকে আলাদা।
মানে এই জগৎ সাপেক্ষ সত্য। আর নিরপেক্ষ সত্য কি না একই বস্তুর উপস্থিতি বা দ্বৈতের অনুপস্থিতি। সেই বস্তু অনাদি (যার আরম্ভ বা জন্ম নেই), অনন্ত (যার শেষ বা মৃত্যু নেই), অপরিবর্তনীয় (যার বদল নেই) -- বদলের প্রস্নই নেই যেহেতু  দ্বিত্ত নেই।
নিরপেক্ষ সত্যের এই অনন্তকে সাপেক্ষ জগতে ধারণা করতে হলে পুনরাবর্তন হতে হয়।
এখন দেখাযাক পুনরাবর্তন কি?
কোন কিছু পরিবর্তন হতে হতে আবার আরম্ভের অবস্থায় এসে পড়ে তবে আমরা বলতে পারি সেটির পুনরাবৃত্তি হল।আর যার পুরনাবৃত্তি হল তার আরম্ভ বা শেষ রইল না।
ঘড়ির কাঁটা দুটো দিনে দুবার এক লাইনে আসে, মানে ঘড়ির কাঁটার অবস্থান পরিবর্তন দিয়ে আমরা সময় মাপি। এখন যদি বলি ট্রেন টা ঘন্টায় দশ কিলোমিটার যায় তাহলে আমরা বুঝি ঘড়ির কাঁটা দুটো দুবার এক লাইনে আসার মধ্যে ট্রেনটা একশকুড়ি কিলোমিটার যাবে। মানে ঘড়ির কাঁটার অবস্থানের পরিবর্তন দিয়ে ট্রেনের অবস্থানের পরিবর্তন নির্ধারণ করা হয়। এথেকে আমরা বুঝি যে সময় আসলে পরিবর্তন। একটা নির্দিষ্ট হারে পরিবর্তন এর সাপেক্ষে (ঘড়ির কাঁটার অবস্থান)
অন্য পরিবর্তন মাপা হয় যা সবসময় নির্দিষ্ট হারে নাও হতে পারে। 
তাহলে যেখানে পরিবর্তন আছে সেখানে সময় দিয়ে সেটা কে মাপা হয়। পরিবর্তন থাকলে তবেই পুনরাবর্তন সম্ভব। আর পুনরাবর্তন হলে তবেই আমাদের জগতে অনন্ত সম্ভব।
আর তাই গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন 

"আব্রহ্মভুবনাল্লোকাঃ পুনরাবর্তিনোহর্জুন।

মামুপেত্য তু কৌন্তেয় পুনর্জন্ম ন বিদ্যতে।"

মানে সাপেক্ষ জগতে সবকিছুই পুনরাবর্তিত হয়।
আর নিরপেক্ষ সত্যে? সেখানে দুই নেই,মানে পরিবর্তন নেই মানে সময় নেই, মানে আদিও নেই অন্তও নেই মানে পুনরাবর্তন নেই। তাই সেই চরম সত্যই তাঁর ধাম। তাই তিনি বলেছেন ঃ-

ন তদ ভাসয়তে সূর্যন শশাঙ্ক ন পাবকঃ
যদ্ গত্বা ন নিবর্তন্ততেতদ্ধাম পরমং মম।
(গীতা 15.6)
।।আশীষ ঘোষাল।।

Jul 7, 2022

Dream

এই প্রস্নটা আমি পাঁচ বছর আগে করে ছিলাম।
 তিন দিন আগে, 'আমি কে' এই বিষয় রামকৃষ্ণ মিশন এর এক মহারাজের আই আই টি,কানপুরে দেওয়া মান্ডুক্য উপনিষদের ওপর এক ভাষনে (ইউ টিউবে) জনক রাজার একটি গল্প শুনলাম।
একদিন জনকরাজা দেখলেন যে বাইরের শত্রু আক্রমন করেছে, তিনি তৎক্ষনাৎ যুদ্ধে গেলেন, কিন্তু জিততে পারলেন না, বন্দি হলেন এবং তাঁকে রাজ্য থেকে বহিষ্কার করা হল..  হঠাৎ ঘুম ভাঁঙ্গতেই তিনি দেখলেন ওটা সপ্ন ছিল,  তিনি প্রস্ন শুরু করলেন, 'ওটা ঠিক না এটা?'
কোন কিছুই বলেন না কেবল ' ওটা ঠিক না এটা?'
রাজসভায় অষ্টাবক্র মুনি এলেন, কুশল প্রস্নের জবাবেও সেই একই প্রস্ন।
মুনিবর বললেন ' না ওটা ঠিক, না এটা ঠিক, এমনকি যখন তুমি ঘুমিয়ে সপ্ন দেখনি সেই অবস্থাও ঠিক নয়, ঠিক কেবল চতুর্থ অবস্থা ' 
এই ব্যাপারে আরো জানতে হলে পড়তে হবে মান্ডুক্য উপনিষদ, সবচেয়ে ছোট ( সাইজে) আর একেবারে ধানি লঙ্কা। একদিন এব্যাপারটা লেখার ইচ্ছে রইল।

Can anyone tell me? 

Last night I dreamt a horrible dream. I saw I have became in the size of an Ant and all the furniture have become huge mountains to me. The walls are no longer vertical and have became flat for me and I can easily walk on them without falling .When I became thirsty I wanted to have some water --I saw that a big pond with vertical walls is there which I used to call glass,--- suddenly I awoke and saw I am not changed -- but one thought -- started disturbing me -- how the things actually are ?--- as I see it now or as I was seeing it in my dreams as an ant, or,something else? Was I dreaming or am now in dream?-- can anyone tell me?

Jun 30, 2022

।।যোগ।।

বলেছিলাম ধর্ম আর ইশ্বর এর পরে একদিন যোগ সম্মন্ধে আরো কিছু লিখব, এয়াই আজ কলমধরা।
আগে যা লিখেছিলাম তা নিচে দিলাম খোঁজাখুঁজি বাঁচাতে।
******
যোগ:- মানব জীবনের উদ্যেশ্য ব্রহ্মপোলব্ধি, কেন?, না যখন কেউ সেই স্তরে যায় সে উপলব্ধি করে এই জগৎ এর অনস্তিত্ব, আর তাই তার থাকেনা কোন ভয়,কোন বন্ধন।তাই তাঁকে জেনেই একমাত্র মৃত্যু কে অতিক্রম করা যায়, নান্য পন্থা বিদ্যতে অয়নাম।

কিন্তু প্রস্ন কিকরে? কিকরে সেই উপলব্ধি হবে? সেই উপলব্ধির রাস্তাই যোগ।

রাস্তা খুঁজতে গিয়ে তাঁরা অনেক রাস্তা আবিস্কার করেছেন, রাজযোগ, ভক্তিযোগ,কর্মযোগ, জ্ঞ্যাণযোগ,এক এক জনের জন্য পাত্র ভেদে এক একটা প্রসস্থ।

যোগের সঙ্গা দিতে পতণজলী বলেছেণ যোগ চিত্তবৃত্তির নিরোধ, গীতায় বলা হয়েছে সমত্বং যোগ উচ্চতে। তিনি অভেদ তাই তাঁকে উপলব্ধির উপায় হল ভেদ বোধের নাশ। 

যোগ আজ সাধারন ভাবে ব্যয়াম অর্থে ব্যাবহার হয়, দেহের অথবা মনের,  কিন্তু এই যোগ সাধ্য নয় সাধন, মানে গন্তব্য নয় রাস্তা।

দেহের ব্যায়াম দেহকে অনেকদিন স্থায়ী করে সাধনার সুযোগ তৈরিকরার কারনে, মনের ব্যায়াম মনকে স্থির করে সমত্বে স্থিত করার কারনে।
**********
মানব জীবন এর লক্ষ্য পরমাত্মার সঙ্গে জীবাত্মার, খন্ড চৈতন্যের সাথে পূর্ণ চৈতন্যএর একাত্মানুভুতি।
অর্থাৎ ব্রহ্মোপলব্ধি। কেন তা আগেই বলেছি।এই উপলব্ধি পাওয়ার যে রাস্তা বা পদ্ধতি তার নাম যোগ। অর্থাৎ যোগ সাধ্য নয় সাধন, গন্তব্য নয় রাস্তা।
আমরা যদি একটা এনালজি নিই তবে ব্যাপার বুঝতে সুবিধা হবে।
মনেকরি আছে ওজন ১০+১০=২০ গ্রাম, একটা হার আছে, ওজন ২০গ্রাম আর চারটি আংটি আছে, ৫ গ্রাম করে মোট ২০ গ্রাম। সবগুলোই সোনার,  তিনটি গহনার নাম আলাদা, ব্যবহার আলাদা আর ফর্ম বা চেহারা আলাদা, মানে ত্রিমাত্রিক স্পেসে প্রত্যেকের সোনার অনুগুলি আলাদা ভাবে সাজান কিন্তু তাদের উপাদান একই অর্থাৎ সোনা। তাহলে আমরা বিভিন্ন নাম কাকে দিচ্ছি?  না ফর্ম বা চেহারাকে, ব্যবহার কে কিন্তু উপাদান কে নয়। এখানে মনে রাখতে হবে যে উপাদান ছাড়া চেহারা বা ব্যবহার এর কোন অস্তিত্ব নেই কিন্তু ব্যবহার বা চেহারা ছাড়াও উপাদানের অস্তিত্ব আছে, আর সোনার ধর্ম বা বৈশিষ্ট সব চেহারা তেই বিদ্যমান।
এবার মনেকরাযাক প্রথমে ছিল চারটি আংটি সেগুলোই গলিয়ে তৈরি হল দুটি বালা আর তারপর সেদুটো গলিয়ে একটা হার।
ত্রিমাত্রিক স্পেসে আর এক মাত্রা যোগ হল 'সময়'
মানে উপাদান বদল নাকরেই সময় মাত্রায় চেহারা ও ব্যবহার বদল হয়েছে,কিন্তু  সময়ের তিন বিন্দুতেই উপাদান একই আছে।
এবার এই ধারনাটাই সমস্ত বস্তু ও শক্তি তে প্রয়োগ করা যাক,। আমরা জানি সকল বস্তু বিভিন্ন মৌলিক অনু দিয়ে তৈরি,  আর অনুগুলি পরমানু দিয়ে তৈরি, পরমানু প্রধানত তিনটি মৌলিক কনা ইলেকট্রন, প্রোটন আর নিউট্রন দিয়ে তৈরি। অর্থাৎ বলতে পারি জগৎ এর সকল বস্তু তিনটি কনার বিভিন্ন সয্যার (এরেঞ্জমেণ্ট)দ্বারা প্রস্তুত।
বিজ্ঞান এও দেখিয়েছে যে এই কনা গুলোও আবার শক্তিরই নামান্তর। তাহলে এ কথা বলাই যায় যে এই জগতে সবই শক্তিরই রুপ।অর্থাৎ এজগতের উপাদান একই, তাকে শক্তি বল, ম্যাটার্জি বল, আল্লা বল ব্রহ্ম বল বা পরমাত্মা।
তাহলে যে জগৎ তা সত্য নয়? ভ্রম?
কিন্তু ভ্রম বললেই দুটি অস্তিত্ব মানতে হয়, যার ভ্রম হয়েছে, যার সম্মন্ধে ভ্রম। কিন্তু যদি দুইএর অস্তিত্ব অস্বিকার করা হয় তবে ভ্রম হয়না।
আমার চেহারা চেনার ক্ষমতা আছে তাই হার, বালা আর আংটি আলাদা নাহলে সবটাই সোনা।
মানে হার আংটি,বালা এরা আমার ক্ষমতা সাপেক্ষে সত্য। আর সোনা আমার ক্ষমতানিরপেক্ষা৷ সত্য।
একই ভাবে জগৎ এ দুই প্রকার সত্য, সাপেক্ষ ও নিরপেক্ষ।
সাপেক্ষ সত্যের জগতে আমরা বাস করি আর নিরপেক্ষ সত্য অনুভব করা - আবার বলি- অনুভব করা, জানা নয়, আমাদের লক্ষ্য।
আর সেই লক্ষ্যে পৌঁছে দেয় যেসকল পদ্ধতি  সেগুলোই যোগ।
সেই রাস্তা খুঁজে বার করতে গিয়ে বিভিন্ন কালে ও বিভিন্ন জনে অনেক রাস্তার খোঁজ পেয়েছেন, রাজ যোগ,কর্ম যোগ, ভক্তি যোগ,জ্ঞান ইত্যাদি। সব পথই এসে মিলে গেল শেষে,  একই অনুভবে।
আমরা দেখেছি সত্য দুই প্রকার আর আমরা সাপেক্ষ সত্যের জগতে আছি। এই সাপেক্ষ সত্য কেন আছে? না এই সত্য আমাদের খবর দেবার এবং সেই খবর প্রসেস করবার ক্ষমতা র উপর নির্ভর,বা ইন্দ্রিয় নির্ভর।এই সত্যের অস্তিত্ব আমাদের  বা জীবের ইন্দ্রিয় এর উপর। তাই এই ইন্দ্রিয় গুলি ( কর্মেন্দ্রিয় ও জ্ঞানইন্দ্রিয়)  কাজ করা বন্ধ করলেই অপরোক্ষানুভুতি হয় বা নিরপেক্ষ সত্যএর আনুভুতি হয়। আর তাই রাজযোগের প্রধান পুস্তক প্রনেতা পতঞ্জলি   বলেছেন 'যোগসচিত্তবৃত্তি নিরোধ।'
আমাদের ইন্দ্রিয় গুলি  উপাদান গতভাবে একই বস্তুগুলিকে আলাদা বা অসম ভাবে বলেই সাপেক্ষ সত্যের অস্তিত্ব আছে। আর ইন্দ্রিয় নিরোধ হলেই সমত্ত জাগ্রত হয় আর অপরক্ষানুভতি হতে পারে তাই গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন 'সমত্বং যোগ উচ্চতে'
রাজ,ভক্তি,জ্ঞান, কর্ম ইত্যাদি সব রাস্তাই সমত্ব ভাব শৃষ্টির লক্ষে চলেছে, সমাজ সংসার ও মনস্থিতি অনুযায়ী রাস্তা বেছে নিতে হয়।
*****
অনেক হয়েছে, আর না।---- কেউ যদি ভুল করে পড়ে ফেলেন, তবে অনুরোধ যে ভাল, মন্দ,দুর্বোধ্য কিছু একটা বলুন, ও হ্যাঁ বানান ভুল দেখবেন না প্লিজ। 

Jun 29, 2022

।।বায়োস্কোপ।।

ছেলেটা এসেছিল বাবার সাথে বায়োস্কোপ দেখতে।অনেক দুরের গ্রাম থেকে বাবার সাইকেলের পেছনে বসে।আসতে আসতে বাবাকে সুধোয় 'বায়োস্কোপ কি বাবা?'
বাবা বলে ' একটা বড় ঘর, তার মধ্যে পর্দা থাকে,ঘরটা থাকে আন্ধকার, ঘরের পেছনের দিক থেকে একটা যন্ত্র পরদার ওপর বিভিন্ন রকম আলো ফেলে, আর পর্দায় দেখাযায় ছবি,সেগুলো আবার চলে ফেরে,কথাবলে' ছেলে বলে৷ আরেব্বাবা 'এতো দারুন, আমি দেখতে পাব?'
বাবা বলেন 'নিশ্চয়ই পাবি'।
যখন তারা হলে পৌছায় তখন শো সুরু হয়ে গেছে, পর্দায় পান্ডব কৌরব দের সেনা দেখা যাচ্ছে দুই পক্ষের মধ্যে কৃষ্ণ সারথি রথ স্থাপনা করেছেন,অর্জুন বিশাদগ্রস্থ। ছেলে ছবি দেখে উত্তেজিত, বলে' বাবা পর্দা কোথায়?'
বাবা বলে কেন, 'অর্জুনের পেছনে'। ছেলে বলে 'ও বুঝেছি রথটাই পর্দা' বাবা বলে 'ওরে না রে পর্দাতো রথের পেছনে' ছেলে বলে বুঝেছি 'কৌরব সেনারা পর্দা,' বাবা বলে ওরে না রে পর্দা ওদেরো পেছনে...  ছেলে কিছুই বোঝেনা বলে 'সে আবার কি?  তার মানে পর্দা নেই।'
এই সব হতে হতে এসেযায় ইন্টারভ্যালের সময়, হলের আলো জ্বলে ওঠে, ছবি মিলিয়ে যায়, পর্দা দৃশ্যমান হয়। ছেলে বলে,'ও এই তাহলে পর্দা, ছবি ছিল৷ তাই দেখা যাচ্ছিল না।
*****
এই জগৎ ও ঠিক এই রকম, আমাদের কর্ম ও জ্ঞান ঈন্দ্রীয়ের জড়করা খবরের প্রোজেক্সন। জ্ঞানের আলো পডলেই ছবি ভ্যানিস। পর্দা ছোখের সামনে। বায়োস্কোপের মতই পর্দার সর্বত্র ছবি / প্রোজেক্সান তাই পর্দা ভ্যনিস।

Jun 25, 2022

ইশ্বর ঃ-

বিশ্ব যোগ দিবসে একটা পুরনো লেখা পোস্ট করেছিলাম, আর অবাক কান্ড দেখছি যে কয়েকজন পড়েও ফেলেছেন।লেখা টাতে ধর্ম,ইশ্বর ও যোগ সন্মন্ধে আমার কিছু উচ্চারিত চিন্তা ছিল। ধর্ম প্যারায় আজ কিছু ব্যাখ্যা লিখি।(বাকি প্যারা সম্মন্ধে  পরে লিখব) সেখানে লিখেছিলাম যে, যা ধারন করে তাকে ধর্ম  বলে? 
  কি ধারন করে? তা হল, সমাজ,স্বাভাবিক ন্যায়, সামাজিকদের আচরণ ইত্যাদি.. ইত্যাদি। 
ধর্মের দুটো লক্ষ্য,১) সুষ্ঠু সমাজ আর ২) এই ভবসাগর পার লাগানো বা আত্ম উপলব্ধি।
আমি লিখেছি যে এই দুটি পরস্পর পরিপূরক। কি করে? একটা এনালজি দেওয়া যাক।
পুকুরে জল স্থির,  পুর্নিমার রাতে পাড়ে দাঁড়ালেই জলে পুর্ণ শশী। হঠাৎ এক বদ ছেলে দিল জলে একটা ইঁট ছুঁড়ে. পূর্ন শশী এক ছিল, অনেক হল। অর্থাৎ নিষ্কম্প জলে চাঁদের একত্ব প্রতীত হয় আর কম্পমান জলে এক চন্দ্র বহু হয়। পুকুরের জল যদি আমাদের মন হয় আর চাঁদ হয় একমেবদ্বিতীয়ম্,  পুকুরের ঢেউ আমাদের চিন্তা আর দুষ্টু ছেলেটা আমাদের পাওয়া বা হারাবার ইচ্ছা (রাগ দ্বেষ)। তবে রাগ দ্বেষ দ্বারা তৈরি হওয়া আবিরাম চিন্তা আমাদের এক কে বহু দেখিয়ে এই দৃশ্যমান জগৎ তৈরি করে আর একমেবাদ্বিতীয়ম কে দেখতে দেয়না।
অর্থাৎ তাঁকে উপলব্ধি করতে হলে, সুষ্ঠু সমাজ,শান্তিময় মন, সুস্থ দেহ, সবল  নিস্তরঙ্গ অকুন্ঠিত মন চাই, যা নাকি ধর্মের প্রথম লক্ষ্য পূর্ণ না হলে পাওয়া মুশকিল। আর দ্বিতীয় লক্ষ্যে পূর্ণ করা কিছু লোক থাকলে,তাঁদের প্রজ্ঞার কারণে প্রথম লক্ষ্য পুর্ন করা সহজ হয়। তাই দুই লক্ষ্য পরস্পরের পরিপুরক।
প্রথম লক্ষ্য পূর্ণ করার জন্য বিভিন্ন কালে তখনকার সময়োপযোগী কিছু নিয়ম কানুন বিভিন্ন দেশে কিছু প্রাজ্ঞ মানুষ তৈরি করেছেন (ধর্ম), আর সেই নিয়ম মানানোর জন্য কিছু লোভ বা ভয়ের ব্যাবহার করেছেন। এখানে প্রশ্ন হতে পারে কারণ অবহিত না করে, লোভ বা ভয় দেখিয়ে নিয়ম মানানো কি উচিত হয়েছে? 

 এখানে মনে রাখতে হবে সেই কালে আজকের দিনের কোন সুবিধাই ছিল না, তাই প্রাজ্ঞ ব্যেক্তিরা অজ্ঞ জনসাধারনের জন্য নিরুপায় হয়েই লোভ আর ভয় কে ব্যবহার করেছেন। তাঁরা পথকে লক্ষ্যের তুলনায় কম গুরুত্ব দিয়েছেন এবং লক্ষ্যে পৌঁছাতে যেকোনো পথে চলতে রাজি হয়েছেন।আর সেই কারণেই কালের বিবর্তনে নিয়ম কানুনগুলোর অপব্যবহার হয়েছে। 
কিন্তু একথাও মানতে হবে যে এছাড়া উপায় ছিল না।

ধর্ম

বিশ্ব যোগ দিবসে একটা পুরনো লেখা পোস্ট করেছিলাম, আর অবাক কান্ড দেখছি যে কয়েকজন পড়েও ফেলেছেন।লেখা টাতে ধর্ম,ইশ্বর ও যোগ সন্মন্ধে আমার কিছু উচ্চারিত চিন্তা ছিল। ধর্ম প্যারায় আজ কিছু ব্যাখ্যা লিখি।(বাকি প্যারা সম্মন্ধে  পরে লিখব) সেখানে লিখেছিলাম যে, যা ধারন করে তাকে ধর্ম  বলে? 
  কি ধারন করে? তা হল, সমাজ,স্বাভাবিক ন্যায়, সামাজিকদের আচরণ ইত্যাদি.. ইত্যাদি। 
ধর্মের দুটো লক্ষ্য,১) সুষ্ঠু সমাজ আর ২) এই ভবসাগর পার লাগানো বা আত্ম উপলব্ধি।
আমি লিখেছি যে এই দুটি পরস্পর পরিপূরক। কি করে? একটা এনালজি দেওয়া যাক।
পুকুরে জল স্থির,  পুর্নিমার রাতে পাড়ে দাঁড়ালেই জলে পুর্ণ শশী। হঠাৎ এক বদ ছেলে দিল জলে একটা ইঁট ছুঁড়ে. পূর্ন শশী এক ছিল, অনেক হল। অর্থাৎ নিষ্কম্প জলে চাঁদের একত্ব প্রতীত হয় আর কম্পমান জলে এক চন্দ্র বহু হয়। পুকুরের জল যদি আমাদের মন হয় আর চাঁদ হয় একমেবদ্বিতীয়ম্,  পুকুরের ঢেউ আমাদের চিন্তা আর দুষ্টু ছেলেটা আমাদের পাওয়া বা হারাবার ইচ্ছা (রাগ দ্বেষ)। তবে রাগ দ্বেষ দ্বারা তৈরি হওয়া আবিরাম চিন্তা আমাদের এক কে বহু দেখিয়ে এই দৃশ্যমান জগৎ তৈরি করে আর একমেবাদ্বিতীয়ম কে দেখতে দেয়না।
অর্থাৎ তাঁকে উপলব্ধি করতে হলে, সুষ্ঠু সমাজ,শান্তিময় মন, সুস্থ দেহ, সবল  নিস্তরঙ্গ অকুন্ঠিত মন চাই, যা নাকি ধর্মের প্রথম লক্ষ্য পূর্ণ না হলে পাওয়া মুশকিল। আর দ্বিতীয় লক্ষ্যে পূর্ণ করা কিছু লোক থাকলে,তাঁদের প্রজ্ঞার কারণে প্রথম লক্ষ্য পুর্ন করা সহজ হয়। তাই দুই লক্ষ্য পরস্পরের পরিপুরক।
প্রথম লক্ষ্য পূর্ণ করার জন্য বিভিন্ন কালে তখনকার সময়োপযোগী কিছু নিয়ম কানুন বিভিন্ন দেশে কিছু প্রাজ্ঞ মানুষ তৈরি করেছেন (ধর্ম), আর সেই নিয়ম মানানোর জন্য কিছু লোভ বা ভয়ের ব্যাবহার করেছেন। এখানে প্রশ্ন হতে পারে কারণ অবহিত না করে, লোভ বা ভয় দেখিয়ে নিয়ম মানানো কি উচিত হয়েছে? 

 এখানে মনে রাখতে হবে সেই কালে আজকের দিনের কোন সুবিধাই ছিল না, তাই প্রাজ্ঞ ব্যেক্তিরা অজ্ঞ জনসাধারনের জন্য নিরুপায় হয়েই লোভ আর ভয় কে ব্যবহার করেছেন। তাঁরা পথকে লক্ষ্যের তুলনায় কম গুরুত্ব দিয়েছেন এবং লক্ষ্যে পৌঁছাতে যেকোনো পথে চলতে রাজি হয়েছেন।আর সেই কারণেই কালের বিবর্তনে নিয়ম কানুনগুলোর অপব্যবহার হয়েছে। 
কিন্তু একথাও মানতে হবে যে এছাড়া উপায় ছিল না।

Jun 21, 2022

বিশ্ব যোগ দিবস।

আজ বিশ্ব যোগ দিবশ। ধর্ম,যোগ,ইশ্বর, এই সব বিষয়ে কিছু লেখা যাক। বিদ্যে ফলাবার জন্য নয়, কাউকে মতে আনার জন্য নয়,কেবল আমার উচ্চারিত চিন্তা।
ধর্ম :- বিজ্ঞানে এর মানে কোনকিছুর বৈশিষ্ঠ। বৌদ্ধরা ধম্মা বলেন প্রাকৃতীক নিয়ম কে। সাধারন ভাবে ধর্ম বলতে বোঝায় কিছু রিতি ও নীতি যা মনুষ্যসমাজকে সুষ্ঠু ভাবে চলতে সাহায্য করে। শব্দার্থে যা ধারন করে তাই ধর্ম, অর্থাৎ আধার।
আমরা যদি প্রচলিত ধর্ম গুলিকে ভাবি, দেখতে পাব যে প্রত্যেকটার মধ্যে দুটি লক্ষ (অব্জেক্টিভ) পাসাপাসি আছে। এক, সমাজের সুষ্ঠু সঞ্চালন ও স্বাভাবিক ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা, দুই মানুষের চির কালের আত্মজিজ্ঞাসার উত্তর অনুসন্ধান।
বিভিন্ন ধর্মে এই দুই লক্ষের গুরুত্ত বিভিন্ন রকম। কোথাও প্রথমটাই প্রায় সব কোথাও দ্বীতিয়টা। গভীর ভাবে ভাবলে দেখাযায় যে এই দুই লক্ষই পরস্পরের পরিপুরক।
ধর্মে প্রথম লক্ষ পুরনের জন্য নিয়ম কানুন, ও সেগুলোকে মেনে চলানোর জন্য লোভ ( স্বর্গবাস) ও ভয়ের( নরক ভোগ) সাহায্য নেওয়া হয়েছে।
আর দ্বীতিয় লক্ষ পুরনের জন্য মানুষ বিভিন্ন ভাবে ভেবেছে, ইশ্বরের ধারনা ও তার ক্রমবিবর্তন হয়েছে, আর তাঁকে জানা বা উপলব্ধি করার পদ্ধতি প্রকরন তৈরি হয়েছে যাকে বলা হয় যোগ। দ্বীতিয় লক্ষের জন্য দুটি ভাগ এক, ইশ্বর সন্মন্ধে বিভিন্ন ধারনা,(থিওরি)
আর দুই, তাঁকে উপলব্ধি করার বিভিন্ন পদ্ধতি বা যোগ( প্র‍্যাক্টিকাল)

ইশ্বর:- প্রাথমিক কাল থেকে মানুষের বোধ ও ক্ষমতার বিবর্তনের ইতিহাস ভাবলে দেখাযাবে যে প্রথমে তার ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা ও প্রাকৃতির উপর নির্ভরতা থেকে জন্ম হয়েছিল অনেক ক্ষমতা সম্পন্ন অজ্ঞাত এক ইশ্বরের, যাকে খুশি করে সুবিধা পাওয়া যাবে, আর যে রেগে গেলে শাস্তি পেতে হবে।বোধের বিবর্তনের সাথে সাথে মানুষ বুঝল যে সেরকম কেউ যদি থেকেও থাকে, তাতে মুল প্রস্নের ( আমি কি? কেন? আর কোথা হতে?)কোন জবাব পাওয়া যায়না।
ভাবনা চলতে থাকে, চেষ্টা চলতে থাকে। যেহেতু সেই সময় জন্ত্রপাতি বা এখনকার মত প্রথাগত ব্যাবস্থা ছিল না তাই প্রচেষ্টা কেবল মানসিক স্তরেই চলে আর আমার ধারনা এভাবেই জ্ঞান অর্জনের একটা বিকল্প পথের সন্ধান পেয়েযান তখনকার চিন্তাবিদরা আর সেই পথের শেষে উপলব্ধি করেন চরম সত্য।অর্থাৎ দুই সত্যের উপস্থিতি।এক, আপেক্ষিক সত্য, এই জগৎ, বা ভেদজ্ঞাণ, সর্বদা পরিবর্তনশীল জগৎ ও, দুই, চরম সত্য ব্রহ্ম যেখানে ভেদ অনুপস্থিত,পরিবর্তন অনুপস্থিত,আরম্ভ ও শেষ নেই যা ইন্দ্রীয়াতীত,তাই তাকে বর্ননা করা যায়না, ঠাকুরের ভাষায় যা এঁটো হয় না, যা সৎ, চীৎ ও আনন্দ স্বরুপ,যাঁকে তাঁরা কেউ বলেন ইশ্বর,কেউ রাম,কেউ ব্রহ্ম,কেউ সাঁই,কেউবা মনের মানুষ।

যোগ:- মানব জীবনের উদ্যেশ্য ব্রহ্মপোলব্ধি, কেন?, না যখন কেউ সেই স্তরে যায় সে উপলব্ধি করে এই জগৎ এর অনস্তিত্ব, আর তাই তার থাকেনা কোন ভয়,কোন বন্ধন।তাই তাঁকে জেনেই একমাত্র মৃত্যু কে অতিক্রম করা যায়, নান্য পন্থা বিদ্যতে অয়নাম।
কিন্তু প্রস্ন কিকরে? কিকরে সেই উপলব্ধি হবে? সেই উপলব্ধির রাস্তাই যোগ।
রাস্তা খুঁজতে গিয়ে তাঁরা অনেক রাস্তা আবিস্কার করেছেন, রাজযোগ, ভক্তিযোগ,কর্মযোগ, জ্ঞ্যাণযোগ,এক এক জনের জন্য পাত্র ভেদে এক একটা প্রসস্থ।
যোগের সঙ্গা দিতে পতণজলী বলেছেণ যোগ চিত্তবৃত্তির নিরোধ, গীতায় বলা হয়েছে সমত্বং যোগ উচ্চতে। তিনি অভেদ তাই তাঁকে উপলব্ধির উপায় হল ভেদ বোধের নাশ। 
যোগ আজ সাধারন ভাবে ব্যয়াম অর্থে ব্যাবহার হয়, দেহের অথবা মনের,  কিন্তু এই যোগ সাধ্য নয় সাধন, মানে গন্তব্য নয় রাস্তা।
দেহের ব্যায়াম দেহকে অনেকদিন স্থায়ী করে সাধনার সুযোগ তৈরিকরার কারনে, মনের ব্যায়াম মনকে স্থির করে সমত্বে স্থিত করার কারনে।

যাক অনেক কথা লিখে ফেললাম, বোধহয় হিং টিং ছট হয়ে গেল, যদি এতদুর পড়েফেলে থাকেন তবে সময় নষ্ট করার জন্য ক্ষমা চাইছি।আর যদি একান্তই পডে ফেলে থাকেন তবে মতামত দিলে ভাল লাগবে।(বানান সন্মন্ধে ছাড়া)

Apr 7, 2022

-ঃঅসুখ ঃ-

-ঃঅসুখঃ-
************
পৃথিবীর সুগভীর অসুখ এখন।
চাহিদা যখন সন্তোষকে অতিক্রম করল, অসুখের শুরুটা তখন।
বল্গাহীন চাহিদা তৈরি করল উৎপাদন, আর উৎপাদন উৎপন্ন করল চাহিদা।
ভোগের চাহিদা,ক্ষমতার চাহিদা, চাহিদার ঠুলি দেখতে দিলনা পরিনাম।
কেউ একজন বলেদিল," রনে আর প্রেমে অনৈতিক বলে কিছু নেই"। চাহিদা বড় খুশি হল মেনে নিতে। 
ব্যক্তির আরো চাই, রাষ্ট্রের আরো চাই, 
ভুলে গেল কেন চাই।
চাই,চাই, চাই....  মারি অরি পারি যে কৌশলে।
শান্তি যাক, জীব যাক, জাতি যাক, পৃথিবীর কোটিবছরের সঞ্চিত শক্তি যাক, তবু চাই।
সভ্যতা ভুলে গেল প্রকৃতি একটা গতিশীল সাম্যাবস্থা,(dynamic equilibrium)যত বাড়বে চাহিদা, যত নাড়িয়ে দেবে সাম্য, তত সে চাইবে সাম্যে ফিরতে, তৈরি হবে অসুখ, তা সে জৈবিক হোক বা রাজনৈতিক। 
পৃথিবির গভীর অসুখ এখন।
এতেও কি সম্বিত ফিরবে? 
চাহিদার ঠুলি খুলে পড়বে?
পরিনাম দেখে, নতযানু হয়ে ক্ষমা চাইবে সে সন্তোষের কাছে?সাম্য ফিরবে প্রকৃতি তে?
আশা তো বোতল থেকে বেরতে পারেনি,তাই আজো আছে আমাদের কাছে।