Jun 21, 2022

বিশ্ব যোগ দিবস।

আজ বিশ্ব যোগ দিবশ। ধর্ম,যোগ,ইশ্বর, এই সব বিষয়ে কিছু লেখা যাক। বিদ্যে ফলাবার জন্য নয়, কাউকে মতে আনার জন্য নয়,কেবল আমার উচ্চারিত চিন্তা।
ধর্ম :- বিজ্ঞানে এর মানে কোনকিছুর বৈশিষ্ঠ। বৌদ্ধরা ধম্মা বলেন প্রাকৃতীক নিয়ম কে। সাধারন ভাবে ধর্ম বলতে বোঝায় কিছু রিতি ও নীতি যা মনুষ্যসমাজকে সুষ্ঠু ভাবে চলতে সাহায্য করে। শব্দার্থে যা ধারন করে তাই ধর্ম, অর্থাৎ আধার।
আমরা যদি প্রচলিত ধর্ম গুলিকে ভাবি, দেখতে পাব যে প্রত্যেকটার মধ্যে দুটি লক্ষ (অব্জেক্টিভ) পাসাপাসি আছে। এক, সমাজের সুষ্ঠু সঞ্চালন ও স্বাভাবিক ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা, দুই মানুষের চির কালের আত্মজিজ্ঞাসার উত্তর অনুসন্ধান।
বিভিন্ন ধর্মে এই দুই লক্ষের গুরুত্ত বিভিন্ন রকম। কোথাও প্রথমটাই প্রায় সব কোথাও দ্বীতিয়টা। গভীর ভাবে ভাবলে দেখাযায় যে এই দুই লক্ষই পরস্পরের পরিপুরক।
ধর্মে প্রথম লক্ষ পুরনের জন্য নিয়ম কানুন, ও সেগুলোকে মেনে চলানোর জন্য লোভ ( স্বর্গবাস) ও ভয়ের( নরক ভোগ) সাহায্য নেওয়া হয়েছে।
আর দ্বীতিয় লক্ষ পুরনের জন্য মানুষ বিভিন্ন ভাবে ভেবেছে, ইশ্বরের ধারনা ও তার ক্রমবিবর্তন হয়েছে, আর তাঁকে জানা বা উপলব্ধি করার পদ্ধতি প্রকরন তৈরি হয়েছে যাকে বলা হয় যোগ। দ্বীতিয় লক্ষের জন্য দুটি ভাগ এক, ইশ্বর সন্মন্ধে বিভিন্ন ধারনা,(থিওরি)
আর দুই, তাঁকে উপলব্ধি করার বিভিন্ন পদ্ধতি বা যোগ( প্র‍্যাক্টিকাল)

ইশ্বর:- প্রাথমিক কাল থেকে মানুষের বোধ ও ক্ষমতার বিবর্তনের ইতিহাস ভাবলে দেখাযাবে যে প্রথমে তার ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা ও প্রাকৃতির উপর নির্ভরতা থেকে জন্ম হয়েছিল অনেক ক্ষমতা সম্পন্ন অজ্ঞাত এক ইশ্বরের, যাকে খুশি করে সুবিধা পাওয়া যাবে, আর যে রেগে গেলে শাস্তি পেতে হবে।বোধের বিবর্তনের সাথে সাথে মানুষ বুঝল যে সেরকম কেউ যদি থেকেও থাকে, তাতে মুল প্রস্নের ( আমি কি? কেন? আর কোথা হতে?)কোন জবাব পাওয়া যায়না।
ভাবনা চলতে থাকে, চেষ্টা চলতে থাকে। যেহেতু সেই সময় জন্ত্রপাতি বা এখনকার মত প্রথাগত ব্যাবস্থা ছিল না তাই প্রচেষ্টা কেবল মানসিক স্তরেই চলে আর আমার ধারনা এভাবেই জ্ঞান অর্জনের একটা বিকল্প পথের সন্ধান পেয়েযান তখনকার চিন্তাবিদরা আর সেই পথের শেষে উপলব্ধি করেন চরম সত্য।অর্থাৎ দুই সত্যের উপস্থিতি।এক, আপেক্ষিক সত্য, এই জগৎ, বা ভেদজ্ঞাণ, সর্বদা পরিবর্তনশীল জগৎ ও, দুই, চরম সত্য ব্রহ্ম যেখানে ভেদ অনুপস্থিত,পরিবর্তন অনুপস্থিত,আরম্ভ ও শেষ নেই যা ইন্দ্রীয়াতীত,তাই তাকে বর্ননা করা যায়না, ঠাকুরের ভাষায় যা এঁটো হয় না, যা সৎ, চীৎ ও আনন্দ স্বরুপ,যাঁকে তাঁরা কেউ বলেন ইশ্বর,কেউ রাম,কেউ ব্রহ্ম,কেউ সাঁই,কেউবা মনের মানুষ।

যোগ:- মানব জীবনের উদ্যেশ্য ব্রহ্মপোলব্ধি, কেন?, না যখন কেউ সেই স্তরে যায় সে উপলব্ধি করে এই জগৎ এর অনস্তিত্ব, আর তাই তার থাকেনা কোন ভয়,কোন বন্ধন।তাই তাঁকে জেনেই একমাত্র মৃত্যু কে অতিক্রম করা যায়, নান্য পন্থা বিদ্যতে অয়নাম।
কিন্তু প্রস্ন কিকরে? কিকরে সেই উপলব্ধি হবে? সেই উপলব্ধির রাস্তাই যোগ।
রাস্তা খুঁজতে গিয়ে তাঁরা অনেক রাস্তা আবিস্কার করেছেন, রাজযোগ, ভক্তিযোগ,কর্মযোগ, জ্ঞ্যাণযোগ,এক এক জনের জন্য পাত্র ভেদে এক একটা প্রসস্থ।
যোগের সঙ্গা দিতে পতণজলী বলেছেণ যোগ চিত্তবৃত্তির নিরোধ, গীতায় বলা হয়েছে সমত্বং যোগ উচ্চতে। তিনি অভেদ তাই তাঁকে উপলব্ধির উপায় হল ভেদ বোধের নাশ। 
যোগ আজ সাধারন ভাবে ব্যয়াম অর্থে ব্যাবহার হয়, দেহের অথবা মনের,  কিন্তু এই যোগ সাধ্য নয় সাধন, মানে গন্তব্য নয় রাস্তা।
দেহের ব্যায়াম দেহকে অনেকদিন স্থায়ী করে সাধনার সুযোগ তৈরিকরার কারনে, মনের ব্যায়াম মনকে স্থির করে সমত্বে স্থিত করার কারনে।

যাক অনেক কথা লিখে ফেললাম, বোধহয় হিং টিং ছট হয়ে গেল, যদি এতদুর পড়েফেলে থাকেন তবে সময় নষ্ট করার জন্য ক্ষমা চাইছি।আর যদি একান্তই পডে ফেলে থাকেন তবে মতামত দিলে ভাল লাগবে।(বানান সন্মন্ধে ছাড়া)

No comments:

Post a Comment