Jun 25, 2022

ইশ্বর ঃ-

বিশ্ব যোগ দিবসে একটা পুরনো লেখা পোস্ট করেছিলাম, আর অবাক কান্ড দেখছি যে কয়েকজন পড়েও ফেলেছেন।লেখা টাতে ধর্ম,ইশ্বর ও যোগ সন্মন্ধে আমার কিছু উচ্চারিত চিন্তা ছিল। ধর্ম প্যারায় আজ কিছু ব্যাখ্যা লিখি।(বাকি প্যারা সম্মন্ধে  পরে লিখব) সেখানে লিখেছিলাম যে, যা ধারন করে তাকে ধর্ম  বলে? 
  কি ধারন করে? তা হল, সমাজ,স্বাভাবিক ন্যায়, সামাজিকদের আচরণ ইত্যাদি.. ইত্যাদি। 
ধর্মের দুটো লক্ষ্য,১) সুষ্ঠু সমাজ আর ২) এই ভবসাগর পার লাগানো বা আত্ম উপলব্ধি।
আমি লিখেছি যে এই দুটি পরস্পর পরিপূরক। কি করে? একটা এনালজি দেওয়া যাক।
পুকুরে জল স্থির,  পুর্নিমার রাতে পাড়ে দাঁড়ালেই জলে পুর্ণ শশী। হঠাৎ এক বদ ছেলে দিল জলে একটা ইঁট ছুঁড়ে. পূর্ন শশী এক ছিল, অনেক হল। অর্থাৎ নিষ্কম্প জলে চাঁদের একত্ব প্রতীত হয় আর কম্পমান জলে এক চন্দ্র বহু হয়। পুকুরের জল যদি আমাদের মন হয় আর চাঁদ হয় একমেবদ্বিতীয়ম্,  পুকুরের ঢেউ আমাদের চিন্তা আর দুষ্টু ছেলেটা আমাদের পাওয়া বা হারাবার ইচ্ছা (রাগ দ্বেষ)। তবে রাগ দ্বেষ দ্বারা তৈরি হওয়া আবিরাম চিন্তা আমাদের এক কে বহু দেখিয়ে এই দৃশ্যমান জগৎ তৈরি করে আর একমেবাদ্বিতীয়ম কে দেখতে দেয়না।
অর্থাৎ তাঁকে উপলব্ধি করতে হলে, সুষ্ঠু সমাজ,শান্তিময় মন, সুস্থ দেহ, সবল  নিস্তরঙ্গ অকুন্ঠিত মন চাই, যা নাকি ধর্মের প্রথম লক্ষ্য পূর্ণ না হলে পাওয়া মুশকিল। আর দ্বিতীয় লক্ষ্যে পূর্ণ করা কিছু লোক থাকলে,তাঁদের প্রজ্ঞার কারণে প্রথম লক্ষ্য পুর্ন করা সহজ হয়। তাই দুই লক্ষ্য পরস্পরের পরিপুরক।
প্রথম লক্ষ্য পূর্ণ করার জন্য বিভিন্ন কালে তখনকার সময়োপযোগী কিছু নিয়ম কানুন বিভিন্ন দেশে কিছু প্রাজ্ঞ মানুষ তৈরি করেছেন (ধর্ম), আর সেই নিয়ম মানানোর জন্য কিছু লোভ বা ভয়ের ব্যাবহার করেছেন। এখানে প্রশ্ন হতে পারে কারণ অবহিত না করে, লোভ বা ভয় দেখিয়ে নিয়ম মানানো কি উচিত হয়েছে? 

 এখানে মনে রাখতে হবে সেই কালে আজকের দিনের কোন সুবিধাই ছিল না, তাই প্রাজ্ঞ ব্যেক্তিরা অজ্ঞ জনসাধারনের জন্য নিরুপায় হয়েই লোভ আর ভয় কে ব্যবহার করেছেন। তাঁরা পথকে লক্ষ্যের তুলনায় কম গুরুত্ব দিয়েছেন এবং লক্ষ্যে পৌঁছাতে যেকোনো পথে চলতে রাজি হয়েছেন।আর সেই কারণেই কালের বিবর্তনে নিয়ম কানুনগুলোর অপব্যবহার হয়েছে। 
কিন্তু একথাও মানতে হবে যে এছাড়া উপায় ছিল না।

No comments:

Post a Comment