Jul 28, 2022

।।আপনা কে মোর জানা।।



রমন মহোর্ষি র একটা চালু গল্প।

****

একদিন এক ভক্ত এসে খুব কিন্তু কিন্তু করে জিজ্ঞাসা করল,মহারাজ একটা কথা বলার ছিল কিন্তু সাহস পাচ্ছিনা। বলব?

বল,

দেখুন মহারাজ আমি আমি কে? এর উত্তরে খুব একটা আগ্রহী নই, আমি নিজেকে জানার চেয়ে তাঁকে জানতে চাই। আমি ভক্তি পথের পথিক, ভগবান কে ভালবাসি,ভক্তি করি, সেবাকরি, কোন খারাপ কাজ করিনা,রোজ নারায়ন সেবা না করে অন্নগ্রহণ করিনা। মহারাজ আপনি আমাকে বলুন যে এইরকম জীবন যাপন করলে কি মৃত্যুর পর আমার গোলোকধাম প্রাপ্তি হবে?

মহারাজ বললেন “হবে”।

ভক্ত তো মহা খুশি বলে ” মহারাজ গোলোকধামে আমি গোলকপতির দর্শন পাব? 

মহারাজ বললেন “পাবে”।

ভক্তের খুশি আর ধরেনা, জিজ্ঞাসা করে ” মহারাজ আমি যখন তাঁর দর্শন পাব তখন তিনি আমাকে কি বলবেন?

বলবেন ” আত্মনাং বিদ্ধি। নিজেকে জান।"

।।আশীষ ঘোষাল।।

।।জলের আত্মজীবনী।।

।।জলের আত্মজীবনী।। 
******
আমার এক বন্ধু চন্দন ইস্কুলে বাঙলা পডায়। একদিন ওদের বাড়ি গেছি, দেখি খাতা দেখছে।আমি গিয়ে বসতে ওর বৌমা চা বিস্কুট দিয়ে গেল। 
বলেগেল আগে চা টা খান, তারপর লুচি আর সাদা আলুর চচ্চড়ি হচ্ছে আপনাকে আর বাবাকে দিয়ে যাব। বাবার চা খাওয়া হয়ে গেছে।
বৌমা চলে যেতে, চন্দন বান্ডিলের বাইরে রাখা একটা খাতা নিয়ে আমার হাতে দিল। বলল আমাদের ঈস্কুলে একটা ছেলে আছে, একটু পাগলা গোছের কিন্তু একদম অন্যরকম ভাবতে পারে, লেখেও ভাল, কিন্তু ভয়ানক বানান ভুল লেখে। এবার পরিক্ষায় রচনা দিয়েছিলাম "জলের আত্মজীবনী", কি লিখেছে দেখ, বানান দেখিস না কারন আমি জানি বানানে তুইও ওই ছেলেটারই মত। বিষয় হিসাবে তুই দশে কত দিবি?
আমি খাতা খুলে পড়তে সুরু করলাম।
*****
আমি জল, আমার অপর নাম জীবন। আমার কোন রং নেই, গন্ধ নেই, স্বাদ নেই, আকার নেই,মানে যে পাত্রে থাকি আমার আকারও তার মতই হয়। আমি কখনও বরফ, কখনও বাস্প, কখনও মেঘ, কখনও বৃষ্টি,কখনও নদী  কখনও সমুদ্র,  কখনও ঝিল কখনও পুকুর কখনও ঢেউ কখনও ঘুর্ণি, আমি যত জীব আছে তার  একটা প্রধান অংশ।  সব মানুষের প্রায় সত্তর ভাগ আমি।
এই পৃথিবীতে  আমার জন্ম প্রায় পৃথিবীরই সাথে। যখন সুর্য থেকে একটা অংশ ছিটকে এসে টুকরো  টুকরো  হয়ে সুর্যকে প্রদক্ষিণ করতে লাগল, তখন সুর্যের দিক থেকে তৃতীয় টুকরো টা, যেটা আজকের পৃথিবী, ক্রমে ঠান্ডা হতে থাকল। তখন আমি ছিলাম আমার দুই মৌলিক উপাদান হাইড্রোজেন  আর অক্সিজেন হিসেবে। পৃথিবী খানিক ঠান্ডা হতেই হাইড্রোজেন আর অক্সিজেন মিলে তৈরি হলাম আমি। তখন পৃথিবী খুব গরম তাই আমি ছিলাম বাস্প হয়ে পৃথিবীর চারপাস ঘিরে। আস্তে আস্তে পৃথিবী নামের গরম তরলের গোলা ঠান্ডা হতে থাকল,  তরল গোলার ওপোর জমে যাওয়া তরলের সরের মত আস্তরন পড়তে লাগল। ক্রমে আস্তরন মোটা হতে থাকল,  আর সেই মোটা আস্তরনের ভিতর টা ঠান্ডা হওয়ার হার কমতে লাগল, আর আস্তরনের ওপরটা ঠান্ডা হতে লাগল তাড়াতাড়ি কিন্তু ভিতর টা গরম , এই ঠান্ডা গরমের ফলে আস্তরন টা কুঁচকে যেতে থাকল,  কোথাও খুব উঁচু কোথাও খুব নিচু কোথাওবা সমতল। ইতিমধ্যে গরম কমায় আমার অনু গুলোর ছোটাছুটি কমল আর অনেকে মিলে তৈরি করল ছোট ছোটো কনা আর কনাগুলো পাশাপাশি হয়ে তৈরি করল মেঘ।  আর একটু ঠান্ডা হতেই সুরু হল বৃষ্টি,  আমি পৃথিবীর পিঠে সব নিচু যায়গা ভরে দিয়ে তৈরি কোরলাম সমুদ্রে আর হ্রদ। খুব উঁচু হওয়া যায়গা হল পাহাড়। পাহাড়ের ওপর পড়ে জমে গিয়ে আমি বরফ হলাম। আর সুর্যের আলোয় গলে গলে যেখানে নিচু পেলাম সেখান দিয়েই বইতে লাগলাম, হয়ে গেলাম নদী। বইতে বইতে নদী সমুদ্রে এসে পড়ে। সমুদ্র হোক বা নদী,  বাস্প হোক বা বরফ, আসলে আমি জল - কিকরে আমার এই জ্ঞান হল সেই গল্প বলি।
একবার সমুদ্রে এক বিরাট ঢেউ উঠল, আমি ভাবলাম আমি ওই ঢেউ, আসে পাসে অনেক  ছোট মেজ ঢেউ ছিল তাদের সাথে চলতে থাকলাম। কারুর সাথে বন্ধুত্ত হল, কারুর সাথে শত্রুতা, মনে হল আমি কত বড়, কেউ আমাকে ভালবাসল কেউ বড় বলে হিংসা করল। এই রকম করে চলছিল, হঠাৎ একসময় দেখলাম সাগরের পাড় আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে, মনে হল আর কিছু বাদেই তো আমি আর আমার সাথে ছোট বড় সব ঢেউই মাটিতে আছড়ে পড়বে আর সব ঢেউ, ঢেউ থাকবেনা।খুব ভয় করতে লাগলো, দুঃখ হল, কিন্তু যা ভাবছিলাম তাই হল, সবাই মাটিতে আছড়ে পড়ে আর আলাদা আলাদা ঢেউ থাকলাম না সবাই জল হয়ে সমুদ্রে মিশে গেলাম, তখন চৈতন্য হল আমি আসলে জল, কোন ঢেউ নয়। তার পর অনেক বার ঘুরেছি,  কখনও বাস্প হয়ে মেঘ হয়েছি, বৃষ্টি, হয়েছি, বরফ হয়েছি,  গলে নদী হয়ে বয়ে গেছি সাগরে। নাম যাই হোক আমি আসলে জল তাই এখন আর নিজেকে ঢেউ,  নদী, বাস্প বা বরফ ভাবিনা,  আর চেহারা বদলে যাবে জেনে ভয় বা দুঃখও পাইনা।
*********
এই রকমই জলের আত্মজীবনী। 
*********
পড়ে আমি ভাবলাম এ তো বেদান্তের কথা। যদি ঢেউ, বা নদী কে জিবাত্মা ভাবি, সমুদ্র কে ইশ্বর, তাহলে জল হল সৎচ্চীদানন্দ ব্রহ্ম।
********
আমিতো এই রচনায় কোন নম্বর দিতে পারিনি, আপনি দশে কত দেবেন?
########
।।আশীষ ঘোষাল।।

Jul 26, 2022

ঃঅনন্তঃ

ঃঃঅনন্তঃঃ
উৎসাহ পেয়ে পাগল লিখেই চলেছে, 
সত্যি বলছি, যাদের মাথা ঠিক আছে তাদের পড়ার দরকার নেই।
*****
ছেলেবেলায় আমি তখন ইস্কুলে পড়ি, আমি আর তাপস দুই বন্ধু বিজ্ঞান, কল্পবিজ্ঞান নিয়ে খুব উৎসাহিত ছিলাম।মাঝে মাঝেই আমরা আমাদের বিশ্বব্রহ্মাণ্ড নিয়ে খুব আলোচনা করতাম। অবাক হতাম এই ভেবে যে কেউ যদি ভীষন গতিতে সোজা উপরদিকে চলতে থাকে তবুও সেই যাত্রা  কোনদিন শেষ হবেনা।কিছুতেই ব্যাপারটা ঠিক মেনে নিতে পারছিলাম না আমরা শেষমেষ বললাম নিশ্চয় একদিন সে একটা পাঁচিলে গিয়ে ধাক্কা খাবে,সেখানেই শেষ হবে সেই যাত্রা।
তারপর কেটে গিয়েছে অনেক কাল কিন্তু আজও অনন্ত অধরা। 
একদিন নাতিবাবুকে জিজ্ঞাসা করি " বল দেখি এমন কিছু জানিস যার আরম্ভও নেই শেষও নেই"
নাতিবাবুর চটজলদি উত্তর " কেন?  সার্কেল"
আমি তো অবাক, ঠিকই তো  যা কিছু এক স্থান বা অবস্থা থেকে শুরু করে পরিবর্তন হতে হতে আবার  সেই একই স্থান বা অবস্থায় ফিরে আসে তার তো কোন শুরু বা শেষ নেই। তার মানে আমাদের দেখা এই জগতে অনন্ত কে কেবল পুনরাবর্তন দিয়েই বোঝান যায়। 
আমরা জানি যে আমাদের এই জগৎ কেবল আমাদের কাছেই সত্য কারন এই জগতের চেহারা আমাদের খবর দেবার যন্ত্রের ( ইন্দ্রিয়)  ওপর নির্ভরশীল। যেসব জীবের (প্রায় সব জীব) ইন্দ্রিয় আমাদের থেকে ভিন্ন তাদের কাছে জগতের চেহারা আমাদের দেখা জগতের থেকে আলাদা।
মানে এই জগৎ সাপেক্ষ সত্য। আর নিরপেক্ষ সত্য কি না একই বস্তুর উপস্থিতি বা দ্বৈতের অনুপস্থিতি। সেই বস্তু অনাদি (যার আরম্ভ বা জন্ম নেই), অনন্ত (যার শেষ বা মৃত্যু নেই), অপরিবর্তনীয় (যার বদল নেই) -- বদলের প্রস্নই নেই যেহেতু  দ্বিত্ত নেই।
নিরপেক্ষ সত্যের এই অনন্তকে সাপেক্ষ জগতে ধারণা করতে হলে পুনরাবর্তন হতে হয়।
এখন দেখাযাক পুনরাবর্তন কি?
কোন কিছু পরিবর্তন হতে হতে আবার আরম্ভের অবস্থায় এসে পড়ে তবে আমরা বলতে পারি সেটির পুনরাবৃত্তি হল।আর যার পুরনাবৃত্তি হল তার আরম্ভ বা শেষ রইল না।
ঘড়ির কাঁটা দুটো দিনে দুবার এক লাইনে আসে, মানে ঘড়ির কাঁটার অবস্থান পরিবর্তন দিয়ে আমরা সময় মাপি। এখন যদি বলি ট্রেন টা ঘন্টায় দশ কিলোমিটার যায় তাহলে আমরা বুঝি ঘড়ির কাঁটা দুটো দুবার এক লাইনে আসার মধ্যে ট্রেনটা একশকুড়ি কিলোমিটার যাবে। মানে ঘড়ির কাঁটার অবস্থানের পরিবর্তন দিয়ে ট্রেনের অবস্থানের পরিবর্তন নির্ধারণ করা হয়। এথেকে আমরা বুঝি যে সময় আসলে পরিবর্তন। একটা নির্দিষ্ট হারে পরিবর্তন এর সাপেক্ষে (ঘড়ির কাঁটার অবস্থান)
অন্য পরিবর্তন মাপা হয় যা সবসময় নির্দিষ্ট হারে নাও হতে পারে। 
তাহলে যেখানে পরিবর্তন আছে সেখানে সময় দিয়ে সেটা কে মাপা হয়। পরিবর্তন থাকলে তবেই পুনরাবর্তন সম্ভব। আর পুনরাবর্তন হলে তবেই আমাদের জগতে অনন্ত সম্ভব।
আর তাই গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন 

"আব্রহ্মভুবনাল্লোকাঃ পুনরাবর্তিনোহর্জুন।

মামুপেত্য তু কৌন্তেয় পুনর্জন্ম ন বিদ্যতে।"

মানে সাপেক্ষ জগতে সবকিছুই পুনরাবর্তিত হয়।
আর নিরপেক্ষ সত্যে? সেখানে দুই নেই,মানে পরিবর্তন নেই মানে সময় নেই, মানে আদিও নেই অন্তও নেই মানে পুনরাবর্তন নেই। তাই সেই চরম সত্যই তাঁর ধাম। তাই তিনি বলেছেন ঃ-

ন তদ ভাসয়তে সূর্যন শশাঙ্ক ন পাবকঃ
যদ্ গত্বা ন নিবর্তন্ততেতদ্ধাম পরমং মম।
(গীতা 15.6)
।।আশীষ ঘোষাল।।

Jul 7, 2022

Dream

এই প্রস্নটা আমি পাঁচ বছর আগে করে ছিলাম।
 তিন দিন আগে, 'আমি কে' এই বিষয় রামকৃষ্ণ মিশন এর এক মহারাজের আই আই টি,কানপুরে দেওয়া মান্ডুক্য উপনিষদের ওপর এক ভাষনে (ইউ টিউবে) জনক রাজার একটি গল্প শুনলাম।
একদিন জনকরাজা দেখলেন যে বাইরের শত্রু আক্রমন করেছে, তিনি তৎক্ষনাৎ যুদ্ধে গেলেন, কিন্তু জিততে পারলেন না, বন্দি হলেন এবং তাঁকে রাজ্য থেকে বহিষ্কার করা হল..  হঠাৎ ঘুম ভাঁঙ্গতেই তিনি দেখলেন ওটা সপ্ন ছিল,  তিনি প্রস্ন শুরু করলেন, 'ওটা ঠিক না এটা?'
কোন কিছুই বলেন না কেবল ' ওটা ঠিক না এটা?'
রাজসভায় অষ্টাবক্র মুনি এলেন, কুশল প্রস্নের জবাবেও সেই একই প্রস্ন।
মুনিবর বললেন ' না ওটা ঠিক, না এটা ঠিক, এমনকি যখন তুমি ঘুমিয়ে সপ্ন দেখনি সেই অবস্থাও ঠিক নয়, ঠিক কেবল চতুর্থ অবস্থা ' 
এই ব্যাপারে আরো জানতে হলে পড়তে হবে মান্ডুক্য উপনিষদ, সবচেয়ে ছোট ( সাইজে) আর একেবারে ধানি লঙ্কা। একদিন এব্যাপারটা লেখার ইচ্ছে রইল।

Can anyone tell me? 

Last night I dreamt a horrible dream. I saw I have became in the size of an Ant and all the furniture have become huge mountains to me. The walls are no longer vertical and have became flat for me and I can easily walk on them without falling .When I became thirsty I wanted to have some water --I saw that a big pond with vertical walls is there which I used to call glass,--- suddenly I awoke and saw I am not changed -- but one thought -- started disturbing me -- how the things actually are ?--- as I see it now or as I was seeing it in my dreams as an ant, or,something else? Was I dreaming or am now in dream?-- can anyone tell me?