বিপশ্যনা
স্থির হয়ে বসে কভু একমনে দেখেছকি তার যাতায়াত,
অনুভব করেছকি শরীরের ভাগে ভাগে বেদনাকে,
বুদ্ধির ছুরি দিয়ে চিরে চিরে দেখেছ কি ভাবনাকে,
অনুভূতি শুক্ষ করে ছুয়ে ছুয়ে দেখেছ কি প্রত্যেক অঙ্গকে,
দেখেছ কি উবেজেতে কঠিন যন্ত্রণা - সমত্ত্ব প্রতিষ্ঠ্য়ায়,
অসম্ভব বেড়ে যেতে - যখনি তাড়াতে চেয়েছ তাকে.
দুঃখ আর যন্ত্রনাকে এড়িয়ে যেতে চাও?
------------------------------
------------------------------
বিপশ্যানা শব্দের অর্থ হলো বিশেষ ভাবে দেখা .. অর্থাত কোনো বস্তু বা ধারণাকে যথাভূত , মানে জেরকম আছে সেইরকম দেখা, যেরকম দেখতে পাচ্ছি, যেরকম থাকলে ভালো হত, যেরকম ছিলো বা যেরকম থাকবে ..সেইরকম নয়.এখানে দেখা শব্দটা চোখে দেখা বোঝায়না .. আমরা সব সময় তা বোঝাইও না যেমন যদি বলি " দেখো কি সুন্দর হওয়া দিচ্ছে !" কখন কি আমরা হাওয়া কে চোখে দেখতে বলি? না আমরা দেখো বলতে অনুভব করো বোঝাই .
একইভাবে এখানেও দেখা মানে অনুভবের দ্বারা জানা ,বিপশ্যানা একটি ধ্যান পদ্ধতি .. যা আমার মনে হয় আমাদের জ্ঞান যোগের পথ ,এই পথে হেটেছিলেন গৌতম বুদ্ধ ..এই পথেই পৌঁছেছিলেন লক্ষে .লক্ষ টা কি, না মুক্তি ... কিসের থেকে মুক্তি ? শোক দুঃখ জরা ম্রিত্যু থেকে ... একি সত্যি হতে পারে ? পারে, তবে তর মানে এই নয় যে জরা আসবেনা, ম্রিত্যু হবেনা, শোকের বা দুক্ষের কারণ ঘটবে না , এর মানে এই যে শোক, জরা, মৃতু -এরা থাকবে কিন্তু এরা মুক্ত মানুষের ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারবেনা.
যদি আমার আগের লেখা দেখে থাকেন তো সেই লোকটার কথা মনে আছে বোধহয় যে জঙ্গলের পথে যেতে যেতে হঠাত একটা সাপ দেখতে পেয়ে প্রথমে ভয় পেয়ে গিয়ে ছিলো কিন্তু তার পর যখন আলো নিয়ে কাছে গেলো দেখলো যে ওটা আসলে সাপ নয় ওটা একটা দড়ির টুকরো আলোআন্ধারী তে সাপ বলে মনে হচ্ছিলো ,দুরে এসে আবার দেখতে সে দেখে যে ওটা আবার সাপ বলে মনে হচ্ছে কিন্তু তফাত এই যে এবার তার আর ভয় করছে না . কারণ সে তো সত্যি টা অনুভব করেছে সে তো জানে আর মানে যে যদিও ওটা সাপ দেখাচ্ছে তবুও ওটা সাপ নয় আসলে ওটা একটা দড়ির টুকরো তাই ওর ভয় করে না. তাহলে ভয় টা গেলো কিকরে ? না আসল সত্য টা উপলভি করে সুধু জানলেও ভয় যেত না যেমন গেলনা পরের লোকটার যাকে প্রথম লোকটা বলেদিলো আরে ভয় কেন কর ,ওটা আসলে সাপ নয় ওটা একটা দড়ির টুকরো, কিন্তু পরের জন সাহস করে সামনে গিয়ে দেখলোনা(পরুন উপলব্ধি করলনা বা অনুভব করলনা ) আসল টা কি. আসলে দড়ি এবং সাপের প্রতীতি যেমন ছিলো তেমন আছে সুধু তাদের ভয় রূপ ফল প্রথম লোকটার ওপর রইলো না কারণ সত্যর উপলব্ধি .. একই ভাবে অভ্যাসকারী যখন উপলব্ধি করে যে এই পরিবর্তনশীল জগতে কিছুই ধ্রুব নয়.. যা কিছু আমরা দেখি বা জানি বলে মনে করি সবই আপেক্ষিক সত্য চরম সত্য নয় চরম সত্য এক এবং একমাত্র অস্তিত্ব যার পরিবর্তন নেই ,নেই কোনো আদি বা অন্ত যা চৈতন্ন্যসরুপ আনন্দসরুপ , তখন তার থাকেনা শোক থাকেনা দুখ তাকেই বলে মুক্তি .

No comments:
Post a Comment