আমাদের দেখা দুনিয়া
সেদিন অন্ধদের ইস্কুলে মাস্টার মহাসয় ছেলেদের বললেন - চল তোমাদের আজ চিড়িয়াখানা নিয়ে যাই , তোমরা তো কোনদিন কোনো জনতু দেখনি আজ তোমাদের হাতি দেখাবো . ছেলেদের তো খুব মজা . হই হই লাগিয়ে দিল চিড়িয়াখানা যাবে বলে . মাস্টার মহাসয় ছেলেদের নিয়ে গেলেন চিড়িয়াখানায় হাতিদের থাকার জায়গায় .মুশকিল হলো যে ছাত্র রা তো অন্ধ , তারা তো দেখতে পায়না -- কিকরে হাতি দেখবে ? মাস্টার মহাসয় মাহুত কে বোঝালেন যে দেখো ওরা তো চোখে দেখতে পায়না , ওদের তুমি হাতিকে চুএ দেখার ব্যাবস্থা করে দাও . মাহুত সেইমত এক এক করে ছেলেদের হাতি দেখিয়ে নিয়ে এলো . সবাই কে নিয়ে মাস্টার মশায় ফিরে এলেন. সবাই বাড়ি চলে গেল.
পরেরদিন মাস্টার মহাশয় ক্লাসে এসে বললেন দেখো তোমরা তো কাল হাতি দেখে এসেছ আজ তোমরা লেখ হাতি কিরকম ? ছেলেরা সবাই লিখতে লাগলো আর খানিক বাদে তারা খাতা জমা দিল মাস্টার মশায় কে দেখার জন্য . মাস্টার মসে দেখেন -
প্রথম ছেলেটি লিখেছে - হাতি একটা থামের মত , খসখসএ মত অনুভব হয় হাত দিয়ে দেখলে .
পরের ছেলেটা লিখেছে -- হাতি আসলে একটা পাতলা কুলোর মত জিনিস , নিজে নিজেই নড়ে .
তারপরের ছেলেটা লিখেছে -- আরে হাতি হচ্ছে একটা চাবুকের মত জিনিস সামনে দিকে তুলির মত চুল আছে .
পরের জন লিখেছে -- হাতি একটা বিরাট পাইপের মত , ভিতর দিয়ে ফসফস করে হাওয়া যাতাযাত করে আর সেটা নিজে নিজেই নড়ে.
................................
........................................................
মাস্টার মহাশয় ভেবে দেখলেন -- ঠিকিতো ওরা কিকরে বুঝবে হাতি কিরকম ? ওরা তো চোখে দেখতে পায়না , যেরকম হাতে ছুএ লেগেছে সেরকমই লিখেছে . কিয়ার করেন তিনি বললেন দেখো তোমরা যা লিখেছ নিজেদের মত ঠিকই লিখেছ আমি তোমাদের পড়ে সোনাই . এই বলে তিনি তাদের লেখা গুলো পড়ে শোনালেন -- ছাত্ররা তো হই হই করে উঠলো -- সার তা কিকরে হবে আমরা যে যেরকম দেখেছি তাই তো লিখেছি -- সবগুলোই তো আলাদা আলাদা -- তবে সবগুলোই ঠিক কিকরে হতে পারে?
সার বললেন আসলে তোমরা তো কেউই পুরোটা দেখতে পাওনি কেবল একটা একটা অংশ দেখেছ তাই তোমরা সবাই ঠিক - কিন্তূ কেউই পুরোটা কিরকম তা জানতে পারলেনা -- মাস্টার মশায় মনে মনে ভাবলেন আমরাও কি তোমাদের মতই নই ?
আমারকাছে যেটা মাটির ঢিপি ..একটা পিপড়ের কাছে সেটা বিরাট পাহাড় ..আমার কাছে যেটা পাহাড় পিপড়ের কাছে সেটা তো সমতল .. তবে কোনটা ঠিক?

No comments:
Post a Comment