আজ হঠাৎ কল্পেশ্বরের বাঙালিবাবার ছবিটা পেয়েগেলাম [৩) নম্বরে যাঁর কথা লিখেছি]
********************
★★★★★★★★★★
যিনিই সাধনা কররেন তিনি সাধু। ঋক বেদে সাধু মানে যিনি সুদ্ধ ভাবে নিজের আধ্যাত্মিক লক্ষভেদে ব্রতী।
সাধারন ভাবে বিশেষ কাপড় ও সাজ করা তিলক কাটা লোকেদের আমরা সাধু বলি।ভারতে সাধু কিন্তু যোগী নয়, বা যোগী কিন্তু সাধু নয় , গেরুয়া, হলুদ কিম্বা লাল কাপড় পরা অনেক ঠগ জোচ্চোরও পাওয়া যায়। আবার অনেক সত্যিকরের সাধুও আছেন, বুঝ মন যে জান সন্ধান।
সাধু সম্প্রদায়ের খোঁজ খবর লাগালে দেখা যায় অগুন্তি সম্প্রদায় আছে। শিব সাধক, বিষ্ণু সাধক, স্মার্ত, বৌদ্ধ,যৈন, ইত্যাদি অনেক, এক এক টার মধ্যে আবার অনেক ভাগ। ভাগ বোঝার যন্য বিভিন্ন তিলক, বস্ত্রের রং, বিভিন্ন।
আম বাগানে এসে আমগাছের ঠিকুজির খোঁজ না করে বরং আম খাওয়ার দিকে মন দেওয়াই ভাল, তাই এত বছর বিভিন্ন দিকে ঘুরতে ঘুরতে যে সব সাধু নজরে এসেছে তাদের কথাই বলি।
১)সে অনেক দিনের কথা, সবে চাকরি তে ঢুকেছি ইচ্ছে হল অমরনাথ যাবার, সবাই বল্ল পাগল, যে কোনদিন পাহাড়ে যায়নি সে বলে অমরনাথ? কে যাবে সঙ্গে?
কি আর করা যদি তোর ডাকশুনে কেউ না আসে তবে একলা চল রে.... শেষ মুহুর্তে আর এক পাগল জুটে গেল দুজনে একলা আমরা চললাম। জম্মু হয়ে পৌছে গেলাম পহেলগাওঁ। ওখানে তো সাধুই সাধু, কেউ বলে টাকা দে,তো কেউ বলে লাঠি কম্বল দে। আমরা তো ওদিকে নেই। বেরুবার আগের দিন সন্ধ্যায় বাজারে ঘুরছি আর লোকজন দেখছি এমন সময় এক দেহাতী দেখতে সাধু এসে হাজির,একটু কুন্ঠিত ভাবে হিন্দিতে বল্ল আমরা রাজস্থান থেকে আসছি, আমাদের এক সাধু সঙ্গী দুদিন হল জ্বরে পড়ে আছে, কিছুই দিতে পারছিনা, আমাকে চারটে ছোট কমলা লেবু কিনে দেবেন? আমরা দেখছিলাম অনেক কমলা বিক্রি হচ্ছে,আর ছোট ছট পাতি লেবুর চেয়ে একটু বড় একরকম কমলা বিক্রি হচ্ছে জলের দরে। আমরা বলেছিলাম ঠিক আছে আমরা এক কিলো কিনে দিচ্ছি একটু দাঁড়ান। সাধু বললেন না আমার কেবল চারটেই চাই এক কিলো আমি কি করব?
আমরা তো অবাক, বলে কি? যেখানে অন্য সাধুরা পারলে কেড়ে নেয় সেখানে বলে কিনা মোটে চারটে চাই?
ভাবলাম ইনিই সাধু।
ফেরার পথে দেখলাম আর এক দল যারা লাঠি গুলো প্রায় কেড়ে নিল, জমা করছে বিক্রি করবে বলে... এরা সাধু নয়৷ .....।
২) সেবার গোমুখ দর্শন করে ফিরছি, চিরবাসায় দেখা এক সাধুবাবার সাথে, সৌম্য দর্শন, আনন্দে পূর্ণ,সদা হাস্যময়। কথা হচ্ছিল, জিজ্ঞাসা করলেন কোথা থেকে আসছি, বললাম কলকাতা। হেঁসে বললেন বা তোমরা কলকাতার লোক মায়ের স্থান। আমরা জিজ্ঞাসাকরি কোথায় আপনার বাড়ি ছিল? উনি হাঁসলেন হা হা হা বাড়ি? দুনিয়াই আমার বাড়ি, তবে একসময় আমি বম্বে থাকতাম, সেন্ট স্টিফেন কলেজ থেকে পাস করেছিলাম, হা হা হা, সে আমার গত জন্ম।
আমরা সুধোই কোথায় চললেন? উনি বলেন হা হা হা, কি আনন্দ এখন যাব তপবন, শীত আসছে দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাব প্রায় ছমাস। কি আনন্দ কি আনন্দ। তাঁর নাম করব, কথা বলার কেউ থাকবেনা কি আনন্দ। সুনে বলি মহারাজ আমাদেরো খুব ইচ্ছে ছিল যে তপবন যাই, কিন্তু এবারে তো হলনা, মা কে রেখেএসেছি গঙ্গোত্রী তে, আগামি বছর আমরা আবার আসবো আপনি নিয়ে যাবেন তো?
হা হা হা, বেটা যদি তুমি একটা ফিলিপ্সের রেডিও কেন তো এক বছর,যদি সামসুঙের টিভি কেনো তো দুবছর,যদি গোদ্রেজের ফ্রিজ কেন তো পাঁচ বছরের গ্যারান্টি আছে, তাঁর দেওয়া জীবনের কোন গ্যারান্টি নেই আজ আছি কে বলতে পারে কাল আছি কি নেই। কালের কথাই বলতে পারিনা তো আগামী বছর। যদি তাঁর ইচ্ছা হয় তো হবে... হা হা হা।
কোন উত্তর দিতে পারিনি, উনি আনন্দে এগিয়ে গেলেন ওনার পথে.... ওনার আনন্দ আর অনুভবই বলে দিল সেই সচ্চিদানন্দের স্বরুপ তো সৎ চিৎ ও আনন্দ।
৩) বন্ধু বান্ধব বৌ এবং বন্ধুদের বাচ্চাদের নিয়ে বেরিয়েছি পঞ্চকেদার দর্শনে। লটবহর সঙ্গে নিয়ে কারন আমরা প্রথমে যাব প্রথম কেদার মানে কল্পেশ্বর তার পর এক অজানা পথে রুদ্রনাথ। সে পথে কেবল সাধুদের যাতায়াত আছে এমনকি হিমালয় পথিক উমাপ্রসাদও ওই পথে যাননি কেবল এক সাধুকে আসতে দেখেছেন কল্পেস্বরে। যাই হোক আমরা প্রথম দিন দেবগ্রামে থেকে পরের দিন সকালে বেরিয়ে কল্পেশ্বর, কিন্তু যা হয় গডিমসি করতে আর পরের যাত্রার লোকেদের যোগাড় করতেই হয়েগেল দেরি। যখন পৌছালাম তখন প্রায় দুটো বাজে। ওখানে থাকতেন এক বাঙালি সাধু, বাঙালীবাবা। গ্রামের সবাই তাঁকে খুব মানে, তিনি গেলেই সবাইকে খিচুড়ী প্রসাদ খাওয়ান পেট ভরে। আমরা গিয়ে প্রনাম করলাম বাবা বললেন, এত দেরি করে এলি, আমার তো খাওয়া হয়ে গেছে, চল পুজো দিবি তারপর হাঁড়িতে যেটুকু আছে খাবি।আমরা পুজোদিয়ে এলাম প্রত্যেককে খানিক খিচুড়ি খাওয়ালেন,খেলাম।আমাদের পরবর্তী প্ল্যানের কথা সুনলেন, বললেন যা তোরা ঠিক যাবি কিচ্ছু হবেনা। তাঁ র আশীষ মাথায় নিয়ে ফিরলাম দেব গ্রামে। পরের দিন যাত্রা সুরু।
......….... বহু বছর পরে, তখন বাঙালীবাবা আর ইহলোকে নেই, একটা বইয়ে পড়লাম বাঙালি বাবার কাছে দ্রৌপদির মত অক্ষয় পাত্র ছিল তাই তিনি খাবার আগে যত লোক আসত তাদের পেটভরে খিচুড়ি খাওয়া তেন। তখন তো বুঝিনি........ তখন কেন দিইনি তোমায় সকল শুন্য করে......
৪) ২০০১ পুর্ণ কুম্ভ এলাহাবাদে। আগের পূর্ণকুম্ভেও গিয়েছিলাম কিন্তু থাকা হয়নি কেবল সাহীস্নান করে, অপার বিস্বয় নিয়ে ফিরেছিলাম আর পরেরবার কুম্ভমেলায় কিছুদিন থাকার ইচ্ছে নিয়ে। এবারে ইচ্ছেপুরনের এক সু্যোগ মিলে গেল টুম্পার পরিচিত এক ভদ্রলোকের সুবাদে, ত্রিবেদী জি। উনি ব্যাবস্থা করে দিলেন তাঁবুর,তাই আমি আর ছোটকাকা হাজির হলাম যথা সময়ে। পাসের তাঁবুতে ত্রিবেদীজির বাবা ও মা। ওনারা গত চল্লিস বছর ধরে কল্পবাস করেন। মানে প্রয়াগ সঙ্গমে তাঁবুতে এক মাস বাস করেন, শ্বপাক নিরামিশ দিনে একবার আহার করেন ও রোজ প্রয়াগ স্নান করেন, আর সেটা মাঘমাসে। আমরা গেলাম দশদিন থাকব বলে। তাঁবুতে মালপত্র রেখে আমরা গেলাম নাইতে বার বার ওনারা বলেছিলেন সাবধান ঘাটে যত সাধু তত চোর।আমরা পাড়ে জিনিস রেখে চান করতে নামব। আমি প্রথমে ছোটকাকাকে পাঠালাম
স্নানে আমি পাহারায়, ছোটকাকা উঠে আসছে দেখে আমি এগিয়ে গেলাম আর ছোটকাকা এসেই চিৎকার করে উঠল আমার প্যান্ট? ওতে যে আমার সব ছিল। হায় হায় এখন কি হবে,।
কি আর হবে আমার কাছে টাকা ছিল, এক্সট্রা মোবাইল ছিল দিয়ে দিলাম তাঁবুতে গিয়ে। রোজ সকালে স্নানে যাই এক সাধুর আখাড়ার পাস দিয়ে, দেখি কিছু লোক বাবার ধুনী ঘিরে বসে গাঁজা টানছে। এক দিন বাবা দেখি আমাদের ডাকছেন,গেলাম অনেক কথা হল উনি বললেন কিকরে উনি ঘর ছাড়লেন,সে এক বিরাট গল্প।তারপর বললেন দেখি তোর হাতটা দে, দিলাম। বললেন বল কি জানতে চাস।
আমি বললাম কিচ্ছুনা, বাবাতো আবাক। বললেন বেশ বেশ তবু আমি বলি তুই আশি বছর বাঁচবি আর যখন মরবি দুম করে মরবি ভুগে ভুগিয়ে নয়।
দেখা যাক।
বাবা মথুরা তে থাকেন, আর গরমকালে চলেযান কেদারনাথ। আমরা ফেরার পর একদিন হঠাৎ বাবার ফোন ফোনটা ধরতেই উনি আর একজনকে ধরিয়ে দিলন তিনি বললেন আমি রামকৃষ্ণ মিশন গোলপার্কে থাকি বাবাজি আপনার কথা বলছিলেন একদিন আমি ফিরলে গোলপার্কে আসুন আলাপ হবে।আমি বললাম বেস যাব। তারপর কয়েকদিন কেটেগেল। একদিন ফোন করে বললেন আরে কি আশ্চর্য বাবা আমাকে বলেছিলেন যে আমি গোলপার্কে আর বেশীদিন নেই, আমাকে চলে যেতে হবে আর আমি কলকাতায় এসে দেখি আমার কানপুর যাবার চিঠি আমার টেবিলে। আমি চলে যাব তাই এই সপ্তাহেই যদি আসেন তো দেখা হয়, আমি গিয়েছিলাম। একে কি বলাযায়? কাকতালীয়?
এর পরের গরমে হল সেই কেদারের দুর্ঘটনা, আমি ভাবছি কেজানে বাবাজি তো কেদারেই থাকেন এইসময়, ঠিক পরেরদিন বাবাজির ফোন এল আমি ভাল আছিরে কেদাররের পথে ছিলাম সে সময় এই ঘটনা। তারপর আমি কতবার চেষ্টা করেছি ফোন করার পাইনি। কাকতালীয়?
********************************
সাধু ভুখা ভাব কা ও ধন কা ভুখা নহি
ReplyDeleteধন কা ভুখা হ্যায় যো ও সচ্চা সাধু নহি
সাধন করো বৈরাগী মন রে
সাধন করো বৈরাগী