Jun 15, 2023

নানাপাকাল্লা

##
মমুক্ষু মুক্তিদায়কম,
নমামি কৃষ্ণতারকম।
**
আরে আজকে হয়েছে কি রানাদা এসেছিলো আড্ডায়, হাতে একটা  লাঠি, আমরা তো অবাক,যে রানাদাকে ছোট বেলায় আমরা বুলেট নিয়ে যেতে দেখেছি,সে কিনা লাঠি হাতে। সুধোলাম " তোমার কি হল? উত্তর :
"কম্পবাত"।মানে তোরা যাকে ইংরাজিতে বলিস পারকিন্সনস। তাই লাঠি হাতে?
"ওইসব হলে কিহবে আমি তো মুক্তিনাথ ঘুরে এলাম।"
বলকি, "একেবারে নেপাল। মানেগিয়ে বিদেশ। "
নেপাল আবার বিদেশ কি, গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান, কর্মস্থান কিন্তু ভারত। বলতো গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান কোন সহরে?
এ আবার বলার কি আছে, লুম্বিনী।
যাক জানিস তাহলে।
বলনা তোমাদের মুক্তির গল্প।
বেশ তবে  শোন.…গেছিলাম আমরা সাতজন। আমরা দুজন, ক্যাপ্টেনের বাবা মা, আর আমার এক বন্ধু ভাস্কর শালীবাহন তিনজন মোট সাত।
প্রথমে একটা লজ্ঝড়ে ট্রেন মিথিলা এক্সপ্রেসে রক্সোল। ট্রেনটা যেরকম শুনেছিলাম ততটা খারপ নয়। আর আমাদের তো কোন তাড়া নেই, রোজই রবিবার, তাই এসি ২ কমপার্টমেন্টে, আড্ডাদিতে দিতে, বিকেলে ছেডে সকালেই পৌছেগেলাম রক্সোল বিফোরটাইম। আগে থেকে বলাথাকায় বিকেস একটা স্করপিয় নিয়ে রেডি ছিল। প্রবল গরম, কোনমতে লাগেজ গুলো তুলে আমরা গাড়িতে বসে গেলাম। গাড়িটায় এসি ছিল তাই বাঁচোয়া।
স্টেশন থেকে প্রথমে আমাদের নিয়ে গেল বীরগঞ্জ, ওদের আফিসে।
সেখানে আগেথেকে ঠিককরা মোট বাকি ১,১০০০০/- এর মোধ্যে ৫০০০০ ক্যাস দেওয়া হল। বাকি ৬০০০০টাকা  ফিরে দেব বললাম ব্যানক ট্রান্সফার করে। যাবার আগে  দিয়েছিলাম ৩০০০০। মোট ১৪০০০০।
এদিকে সাতজন গাড়িতে বেশ কষ্টে বসতে হচ্ছে, আমি কেঁপোলোক বলে আমাকে সবাই সামনের দিকে দিয়েছে, ২য় ও ৩য় সারিতে  বেশ  গরম হচ্ছে,অনেকেই বিরক্ত। কি আর করা,  রওনা হলাম লুম্বিনীর দিকে।খানিক এগোতেই ড্রাইভার কে আর একটা গাড়ি বলেগেল যে
ফোন ফেলে এসেছে,তাই পুন: মুষীক ভব। আবার ফিরলাম অফিসে,
সেখান থেকে ফোন নিয়ে রবার রওনা। কি রাস্তা,আহা উদয়শঙ্কর রোড বললে কম বলা হয়।হাজারগন্ডা ডাইভার্সন, নাচতে নাচতে বিকেলে  এলাম লুম্বিনী, তখন আর কারো কথা নেই।কোন মতে হোটেলে উঠে চিৎপাত।
পরেরদিন সকালে উপোস ভঙ্গের পর, মানে ব্রেকফাস্টের পর, দেখতে বেরলাম গৌতমের জন্মস্থল। এই একটা জায়গায় কেবল ব্রেকফাস্ট ফ্রী ছিল। ট্রাভেল এজেন্সি বেড এন্ড ব্রেকফাস্ট রুম বুক করেছিল।বাকি বেড অনলি। হোটেলের সাম্নেই বুদ্ধ জন্মভুমি কিন্তু অটোওয়ালা দের চক্করে সব ঘুরেদেখার আশায় আমরা দুটো আটো নিলাম ৫০০টাকা করে।গৌতম এর জন্মস্থান টি খুব সুন্দর করে সাজানো  কিন্তু বুড়ো বুড়ী দের নড়া খুলে জাবার যোগাড় হাঁটতে হাঁটতে। একটু বেলার দিকে গাড়ি চলল পোখরার দিকে। রাস্তা অর্ধেক উদয়শংকর রোড, বাকিটা হেমামালীনির গাল। পোখরা পৌঁছাতে প্রায় সন্ধ্যা, হোটেল বেশ ভাল।জানালা দিয়ে লেকের ভিউ আছে। সব হোটেলেই এসি রুম। আমিতো ঘুমিয়েই পডলাম, ওরা গেল লেক দেখতে।পরের দিন সকাল থেকে পোখরা চক্কর। বেশ কয়েকটা মন্দির,  আর গুহা দেখে আমরা দুপুরের
খাবার খেলাম,তারপর হোটেল।
পরের দিন সকাল সকাল বেরিয়ে চললাম জুমসুম,মুক্তির মন্দির পাদদেশে। রাস্তা প্রায় পুরটাই উদয়শংকর রোড, গাডির ভেতর নাচতে  নাচতে সংকির্ন কাদা-পাথুরে রোড দিয়ে সন্ধ্যার মুখে পৌছালাম জুমসুম।
এখানে ত্রাভেল এজেন্ট বলেই দিয়ে ছিল যে গ্রামীণ এলাকা, ভাল হটেল নেই তাই কাজচালাও হোটেলে বুক করেছে, বেড,ব্রেকফাস্ট, ও ডিনার সমেত। জুমসুম এসে তো চক্ষু ছানাবড়া। মোটেও গ্রাম নয়, বেশ ভাল ভাল হোটেল আছে। আমদের যে হোটেলে তুলল, তাতে মাত্র দুটো ঘর আমাদের একটা ৩ বেডের অপরটা ৪বেড।ঘরের মাঝখানে ফাঁকায় বসে লোকে ড্রিনক করছে। মালকিকন কে বলতেই বলে "চলেযাও অন্য হোটেল দেখে। "অগত্যা আমরা উল্টোদিকের একটা হোটেলে উঠলাম। ট্রেকারস ইন। দু রাতের জন্য ২৪০০ টাকা নেপালী। খাওয়া আলাদা। এই সব করতে করতে  এলো বৃষ্টি, অগত্যা ঘরেই বন্দী। কে জানত যে সেটাই শাপে বর। পরের দিন মুক্তি নাথ রওনা হতে হবে।প্রথম ২৫ কি মি গাড়ীতে তার পর এগার নম্বর, মানে হেঁটে। সকালে উঠেই দেখি মেঘমুক্ত আকাশ আর আর চোখজুড়ানো তুষার কিরিট নিয়ে আমাদের অভ্যর্থনায় দাঁড়িয়ে হিমালয়। মন বলে উঠল " এ কাঁহা আগয়ে হম... …"
আর বিলম্ব না না, আর বিলঅম্ব নয়,আর বিলম্ব নয় এখন ধকল সয় - এবার চলো মুক্তিনাথ।

সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন পথ ঠিক পথে  চলি। আটটা বাজতে নাবাজতেই আমরা গাড়িতে উঠে বসি।এখানে ঠান্ডা, এ সি দরকার নেই। জয় বাবা মুক্তিনাথ, নারায়ণ। খানিক যাবার পরেই গাড়ি থামাতে বললাম, ছবি তুলব কিন্তু ভিকেস( ড্রাইভার) রাজি নয় কারন গাড়ি চড়াই উঠছে। কিন্তু হোই সোই যো রাম রচিরাখা। গাড়ি রাস্তা ছেড়ে একটু যেই নুড়িতল (মানে নুড়িবিছান সমতল) পেয়েছে ওমনি দাঁড়িয়ে গেল। কেন, না ইঞ্জিন ঠান্ডা করতে পারে। আমরাও মওকা পেয়ে গেলাম ছবি তোলার।
ফোটো সেসন শেষ করতেই আবার চলা,এবার গাড়ি গিয়ে দাঁড়াল মুক্তির মন্দির সোপান তলে। ১৩০ টা ধাপ+ ১০টা মন্দিরের,অনেকটাই হ্যান্ডেল দেওয়া, নহলে আমার মত কম্পবাতের রুগীর যেতে হতনা।
কদিন আগেই উচাই দেখেছি,তাই এক কদম এক সাঁশ, করতে করতে পৌঁছে গেলাম মুক্তি নাথএর দুয়ারে।বিগ্রহের ছবি তোলা মানা, আর শুধু আমাদের জন্যই নয়,কোথাও কোন ছবি কিনতেও পাওয়া যায় না। চত্তরে ছবি তুলেই সন্তুষ্ট থাকতে হল।খুব ভাল দর্শন হল। মন্দিরের তিনদিক ঘুরে ১০৮ জলের ধারা আসছে ১০৮ গোমুখাকৃতি পাথরথেকে। সেই ১০৮ ধারায় চান ধরলেই ডবল পুন্নি মানে মুক্তি, মানে নির্বান মানে বুদ্ধত্ব প্রাপ্তি।আর কেউ মুমুক্ষু না পাওয়াযাওয়ায় আমিই ভাবলাম করেই ফেলি চান।আরকিছু হোক না হোক ওই ঠান্ডাজলে চান করলেই খালিগায়ে চান করলেই পেস্মেকারে চলা হৃদয় নিশ্চয় মুক্তি পাবে।অথয়েব জামাকাপড় খুলে বেশকরে সরসেরতেল মেখে ১০৮ ধারায় দৌড়।বৌ ভাবল বিধবা হবে কিন্তু বিধি বাম, চান করে বেশ ভালই লাগল। জামাকাপড় পরে পেস্মেকার সমেৎ বেঁচে ফিরলাম। সবাই মিলে মন্দিরের সামনে ছবি  তুলে আমরা রওনা হলাম নিচের দিকে। অনেকেই ঘন্টা ঝাড়ল,মানে বেওয়ারিশ ঘন্টা নিল ( আমিও)।আধঘন্টায় সিঁড়ির নিচে। আরো আধঘন্টা লাগল গাড়ির কাছে যেতে। চলল স্করপিও গাড়ি, জুমসুমেরি পাড়ি, সব পাহাড়কে ওপরে রেখে হোটেল পৌঁছে গেলাম। আজকের মত এখানেই ইতি।বাকি গল্প পরে হবে। এইনা বলে রানাদা
উঠে পড়ল।দেখলাম তিনটে সিগারেট আর এক ভাঁড় চা বিল হয়েছে, ভালাম সস্তাই হয়েছে।
।।আশীষ ঘোষাল।।
****

 





No comments:

Post a Comment