সব তীর্থ একবার তীর্থকেদার বার বার .
----
পাহাড়ে ঘোরার ভূত আমায় ঘুরিয়ে মারছে সেই
ছোট্টবেলা থেকে. ঠিক হলনা ছোট্টবেলায় তো যাবার ক্ষমতা ছিল না আর নিয়ে যাবারও কেউ
ছিল না তাই ঘোরা সুরু রোজগার করার পর . প্রথম বার কেদার দর্শন মা এবং বউ কে নিয়ে
বিয়ের ঠিক পরে পরেই ১৯৮৭ তে. সঙ্গে এক
বন্ধুও ছিল , প্রদীপ মতিলাল .তারপরে গেছি অনেক বার বউ কে নিয়ে , বন্ধু ভাস্কর কে
নিয়ে ও একা .কেদারনাথের আকর্ষণ অপ্রতিরদ্ধ , কবে কোন অনাদিকালে পাণ্ডবেরা ঘুরতে
ঘুরতে দেখাপেয়ে ছিলেন মহিষ রুপি মহাদেবের. ভীম তাকে জড়িয়ে ধরলে তিনি ভূমি তে
প্রবেশ করেন কেবল কুঁজ বাইরে থেকে গেল ,তাই কেদার লিঙ্গ .পাণ্ডবেরা মন্দির নির্মান
করে ছিলেন আচার্য্য শঙ্কর এই মন্দির উদ্ধার করেন আর তার পেছনেই আছে ( ছিল) তাঁর
সমাধি . এইসব তথ্য / গল্প আমার শোনা ,প্রামান্যাতা সন্মন্ধে কিছু জানা নেই ,
বিশ্বাসে মিলায় তথ্য তর্কে বহুদূর. চুলোয় যাকগে শোনা কথা তাকিয়ে দেখুন মন্দির, কালো পাথরের মন্দির বসানো আছে হিমকিরীট পর্বত কেদার ও সুমেরুর
পদপ্রান্তে .কে বলে তিনি আছেন মন্দিরেই, আপনার মন বলবে তিনি আছেন সর্বত্র , ওই হিম
শিখরে , ওই বহতা নদীতে ,আপনার কানে ফিস ফিস করে ঠান্ডা বাতাস বলে যাবে তিনি আছেন,
আপনার পুজোর ডালায় , আছেন পাহাড়ি লোকগুলোর ভক্তিতে আছেন দোকানির চুলোয়
,ঘোড়াআওয়ালার জীবন সংগ্রামে, আছেন আপনার চড়াই হেঁটে ফুরিয়ে আসা দমে. তিনি বলছেন চল
চল চল, চরৈবেতি চরৈবেতি . ঠিক পথে চললে পথের শেষে আছি আমি. অনাদি অনন্ত
অপরিবর্তনীয় . কষ্ট কে ভোগ কোরনা, দেখো , ভোক্তা ভাব ত্যাগ কর সাক্ষী ভাব গ্রহণ কর
, তুমিই আমি, বদলায় কেবল চেহারা, সবকিছুরই উপাদান আমি , আমার বদল নেই.
কেদারের টানে অনাদিকাল থেকে চলেছেন
যাত্রীর দল , সেভাবেই ২০১৩ সালে সেই সময় ছিলেন বহু যাত্রী , কেউ যাচ্ছেন কেউ বা
ফিরছেন. ঘটে গেল সেই এই সতাব্দির অন্যতম বৃহত পরিবেশগত দুর্ঘটনা . মন্দিরের অনেক ওপরে পাহাড়ে ছিল একটা হ্রদ নাম গান্ধী তাল সেখানে এসেছিল
বাদল ফাটা বৃষ্টি, জলের চাপে ভেঙ্গে গিয়েছিল হ্রদের একদিক, বিশাল জলরাশি মাটি ও বিরাট বিরাট পাথর নিয়ে নেমে এলো কেদার উপত্যকায়,
নদী গতিপথ পরিবর্তন করল , জল ও পাথরের আঘাতে উপত্যকার প্রায় সমস্ত বাড়ি ভঙ্গে গেল
বা ভেসে গেল নদীতে , যাবার রাস্তাও আর রইলো না কতলোক যে মারা গেল হারিয়ে গেল কত
লোক তার হিসাব নেই .বাস যাত্রা শেষ ও পদব্রজে
তীর্থ যাত্রা সুরু হত গৌরী কুন্ড থেকে , কুন্ডের গরম জলে স্নান করে
যাত্রীরা রওয়ানা দিতেন কেদার র্দর্শনে . ছিল ভারত্শেবাশ্রম ছিল আরো অনেক থাকার
হোটেল ধর্মশালা. সেই ভয়াবহ স্রোত ভাঙ্গতে
ভাঙ্গতে নেমে এলো গৌরি কুন্ডে এমনকে তার পরেও সোনপ্রয়াগে. সে বছরের মত বন্ধ হয়ে
গেল যাত্রা . পুরো বছর ধরে চলল উদ্ধার কার্য . আবার শুরু হল রাস্তা তৈরির কাজ.
কেদার যে অপ্রতিরোদ্ধ .
২০১৪ তেই খেয়াল পোকা নড়ে উঠে ছিল .. আবার
যেতে হবে ,নেটে কিছু ছবি দেখতে পাওয়া যাচ্ছিল যাবার টান আরো বাড়ছিল. শোনা গেল গৌরি
কুন্ডে কিছুই অবশিষ্ট নেই তবে কেদারনাথের মন্দির অলৌকিক ভাবে রক্ষা পেয়েছে . একটা
বড় পাথর এসে আটকে গেছে মন্দিরের পেছনে ফলে জল ও পাথরের ধারা দ্বিধা বিভক্ত হয়ে
মন্দির কে পাশকাটিয়ে চলে গেছে ... তবে কে বলে যে জগতের উদ্ধার কর্তা নিজের উদ্ধার
করতে পারেন না ? যেতে তো হবেই, কিন্তু সেবছর যাওয়া হলো না বাড়ির আপত্তি , সঙ্গীর
এবং খবরের অভাব এইসব কারণে .
২০১৫ সুজিত দা আর যশ দা বলল আমরা যাবো ভাবছি,যাবি?আর
পায় কে হ্যাংলা কে বলে,খাবি?হ্যংলা বলে হাত ধুব কোথায়?যাব মানে?টিকিট কেটে ফেলি
তখনই.
গুটি গুটি সময় কেটেযায় আমরা হাজির হই
হাওড়া স্টেসনে আমরা মানে চার বুড়ো ,এক যশদা ,একদা মাউন্টেনইআর এবং পদার্থবিদ্যার
শিক্ষক ,দুই, সর্বজনমান্য ছোড়দা (উজ্জল সরকার) মাউন্টেনইআর এবং ট্রেকার ,ভারতের
প্রথম ট্রান্স হিমালয়ান ট্রেকার .. খাদ্য় দপতরের প্রাক্তন কর্মচারী তিন,সুজিত্দা
আমার প্রাক্তন সহকর্মী আর চার,আমি অর্থাৎ কেন্দ্রীয় বিহার নিবাসী নৈকস্য় কুলীন ,অধম
কথক .
দুন এক্সপ্রেস এ টিকিট কাটছিল বাতানুকুল
ত্রিস্তর কামরায় ,জলটল কিনে আমরা উঠে পড়লাম কামরায় ,সককলের একটা করে পিঠের বস্তা (
রুক=পেছন ,স্যাক=বস্তা)আর একটা করে ছোট ব্যাগ .ছোড় দার পিঠের ব্যাগে ঘুমাবার থলে (
স্লিপিং ব্যাগ )আর তাঁবুও আছে .. আরে কি হবে দাদা ? প্রাকটিস রাখতে হবেনা ৭৪বর্ষ
কাটাবার পর ছোড়দার উত্তর. গাড়ি ছাড়ল সময়মত ,সুজিত্দার আনা চিকেন আর যশ্দার লুচি
সেইসঙ্গে নকুড় এর সন্দেশ দিয়ে রাতের খাওয়া সেরে আমরা নিদ্রা গেলাম .
সকাল হলো, ট্রেন চলছে , বাতানুকুল কামরা ,
অভ্যস মত ফের্রীয়ালা ওঠেনা আমার বাপু ভালো লাগেনা ,কি আর করা শুয়ে ঘুমিয়ে কোনমতে
দিনটা কাটিয়ে দিলাম পরের দিন সকাল হতেই হরিদ্বার ... আহা কত বার এসেছি তবু বড় ভালো
লাগে.ইচ্ছে ছিল আজকেই বেরিয়ে চলেযাব যত তা এগিয়ে যাওয়া
যায় কিন্তু হলনা,কেননা ছোড়দা তেনার এক বন্ধুর ভস্ম নিয়ে
এসেছেন গঙ্গায় দেবেন বলে তাই আজকের দিনটা আমরা হরিদ্বারেই থাকব. স্টেসন থেকে ভোর
বেলায় বেরিয়ে প্রথমে রিটায়ারিং রুমে খোজ করা হলো কিন্তু সেখানে কেউ আসেনি তাই
গেলাম গারোয়াল মন্ডল বিকাশ নিগমে , ওখানে একটা দর্মেতরী তে চারটে বেড নেওয়া হলো
একদিনের জন্য. একপ্রস্থ চা হবার পর বেরিয়ে পরলাম কিছু জলখাবারের খোঁজে আর তারপর
আবার স্টেসনে গেলাম চারধাম যাত্রার অনুমতি করাতে ,ভোটার কার্ড দেখাতেই তারা ছবি
টবি তুলে যাত্রা কার্ড বানিয়ে দিল, তার পর পরেরদিনের গৌরী কুন্ডের বাসের টিকিট
কাটা হলো .ছোড়দা বেরল অস্থি ভাসাতে, আমরা খানিক গঙ্গার ধারে ঘুরে টুরে ঘরে এসে
স্নান করলাম তারপর ম্ধ্যান্ন্ভজন এবং দিবা নিদ্রা. বিকেলবেলায় টুকটাক কিছু কেনা
কাটা করা হলো আর তার পর চার বুড়োয় বসে গেলো নিয়ে আসা স্টকনিয়ে, শসা পেয়াজ কিনে আনা
হয়ে ছিল সুজিত দা সালাদ কাটল. ভুল হলো আমরা তিনজন বসলাম আর ছোড়দা তার নিজের ককটেল
নিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো , যত বলি বসুন , না, “হাঁটবে কি বসে বসে, প্রাকটিস রাখতে হবে না
!” ছোড়দার উত্তর. একটু রাত হতে আমি , মানে টিমের সবচেয়ে কনিষ্ঠ (৬০) সদস্য় তো তাই,
আমি গেলাম রুটি আর তড়কা আনতে খয়ে দেয়ে সুরু হলো নাক ডাকার প্রতিযোগিতা .
সকালে ঘুম ভাঙ্গলো এলার্মের আওয়াজে,
তাড়াতাড়ি উঠেপড়ে মুখটুখ ধুয়ে ঝোলা বস্তা কাঁধে বেরিয়ে পরলাম বাসের জন্য. বাসে উঠে
মালপত্র রেখে সামনের ঠেলা থেকে চা বিস্কুট আরো কিসব কিনে প্রাতরাশ করা হল আর অনেক
বার টালবাহানা করে স্টার্ট দিয়ে, বন্ধকরে, একটু এগিয়ে পেছিয়ে, যাত্রী নেওয়ার সব্
রকম কায়দা কানুন সেরে বাস ছাড়ল. পথ পরিচিত ,কতবার যে গেছি তার ঠিক নেই , হরিদ্বার
ছেড়ে প্রথমে ঋষিকেশ আর তারপরেই পাহাড় শুরু .সারাদিন বাস চলল মাঝে একবার
রুদ্রপ্রয়াগে দুপুরের খাওয়ার জন্য দাড়ালো আমরা একটা হোটেলে গিয়ে দেখি চিকেনকারী
পাওয়াজাচ্ছে আর কি তাইদিয়ে ভাত খাওয়া হলো আর তারপর একটা পান মুখে আবার বাসে. বিকেল
লাগাদ বাস পৌছাল সোনপ্রযাগ যেখানথেকে একাধিক বার গেছি ত্রিযুগিনারায়ন,যা নাকি শিব পার্বতীর বিবাহ স্থান. মন্দিরে জলছে অক্ষয় ধুনি সেই বিবাহের
দিন থেকে. বাস থেকে নেমে আমি অবাক ,আরে সেই হোটেলটা কোথায় গেল?যেখানে আমি একা এসে
ছিলাম, মালপত্র রেখে হাঁটাপথে গিয়েছিলাম ত্রিযুগিনারায়ান ,কোথায় সেই বিরাট চত্তর
যেখানে বাস গুলো দাঁড়াত , সুমো গুলো ডাকাডাকি করত?, কোথায় সেই ব্রীজ যার ঠিক আগে
ত্রিযুগির হাঁটা পথ ওপরে উঠেগিয়েছিল ?এখন একটা চাতাল তারপাশে একটা অফিসমত জায়গা
যেখানথেকে আমাদের অনুমতি পত্র নিতে হবে ডাক্তারি পরীক্ষার পর , গেলাম সেধানে
আমাদের করে আনা যাত্রা কার্ড নিল আর এন্ট্রি করে পাঠিয়েদিলো ডাক্তারের কাছে , তিনি
আমাদের প্রেসার মেপে দরকার মত কিছু ওষুধ কিয়ে অনুমতি দিয়ে দিলেন . তারপর পুলিশদের
সেই অনুমতিপত্র দেখিয়ে আমরা একটা সুমো তে
উঠে পড়লাম আর সেটা আমাদের নিয়ে গেল গৌরিকুন্ড .সেখানে আমাদের আর এক চমক
অপেক্ষা করছিল যেখানে নামল সেটা আগেরমতই একটা চত্তর তার নদীর ধারের বাড়িঘর গুলো
নেই কিন্তু সেই পথ দেখান্ দিয়ে আগে যাত্রীরা ঢুকতেন যেতেন বিভিন্ন থাকার
জায়গায়,ভারত্সেবাশ্রমে উষ্ণ কুন্ডে ,সেই পথটা আছে আমরাও ঢুকলাম সেই পথে আগে ওই পথে
সোজা গেলেই পড়ত গৌরী দেবীর মন্দির আর তার ওপরেই ভারত শেবাশ্রম আর উলটো দিকে
বাঁকুড়ার বাঙালি খাওয়ার দোকান. আর একটু এগোলেই ছিল উষ্ণ কুন্ড আর পাশদিয়ে চলে যেত
কেদারের রাস্তা . এবার ঢুকেই মনে হলো কোন এক পাহাড়ি পরিতাক্ত গ্রামে ঢুকেপড়েছি ,দুপাশের
দোকানে কেউ নেই অনেক গুলই ভাঙ্গা চোরা অল্প যাবার ওপরে আর সামনে যাবার পথ নেই
বামদিকে একটা সিড়ি বেয়ে উঠতে লাগলাম যার শেষে জি.এম.ভি.এন এর গেস্ট হাউস. সেটা আগে
কখনো যাই নি কারণ দামও বেশি আর ভারত সেবাশ্রম এর সাততলা ধর্মশালা থাকতে যাবইবা
কেন? এখন সেই ধর্ম্শালাও নেই নেই বাঁকুড়ার দোকানও. নেই বাঁধানো কুন্ড. সব চলে গিয়েছে সেই নদীর গর্ভে . গরম জল এখনো বেরোচ্ছে কিন্তু কুন্ড নেই
একটা পাইপ লাগানো হয়েছে তাই থেকে গরম জল আসছে , গৌরী দেবীর মন্দিরের সমনে ছিল
মন্দির কমিটির ঘর আর পাশে ধর্মশালা .এখন শুধু গৌরী দেবীর মন্দির টাই আছে আর কিছুই
নেই .আমরা অনেক তা উঠে জি এম ভি এন এর
নিচে একটা হোটেলে উঠলাম দরা দরি করে আমরা তিনজন আর বাংলাদেশের এক ফরাসী
ভাষার অধ্যাপক এই চার জন. ভদ্রলোকের সঙ্গে আমাদের ব্খানেই আলাপ সে দিনটা আমরা এক
সঙ্গেই থাকলাম তার অপর উনি আগে চলে গেলেন কারণ ওনাকে দুই কি তিন দিনেই ফিরতে হবে .রাতে
খাওয়া দাওয়ার আগে কালকের নিয়ে যাবার জিনিস সব গোছাতে হলো.আমাদের গন্ধমাদন তো আর
নিয়ে যেতে পারবনা তাই একটা ছোট ব্যাগে সামান্য গরম জামা মানে ইনার আর একটা সোয়েটার,
টুপি, রেনকোট নিয়ে নিলাম ক্যমেরা,একটু লজেন্স আর ওষুধের ব্যাগ. ষাট বছরের আমি তো
সবার চাইতে জুনিয়ার তাই আমাকেই রাত বিরেতে রুটি আনতে তলা পাঁচেক নেমে রাতের খাবার
নিয়ে আসতে হল. খাওয়ার পর আটটার মধ্যে শুয়ে পড়া.
ঘুম ভাঙ্গলো এলার্মের ডাকে ,উঠে মুখ ধুয়ে
নিচের থেকে চা যোগাড় ,আর তারপর মাল পত্র হোটেলের লোককে ডেকে জমা রেখে জয় কেদার বলে
যাত্রা হলো সুরু.কেদার যাবার জন্য প্রথমেই আমাদের হোটেল থেকে না নেমে বরং সিঁড়ি
ভেঙ্গে উঠতে হলো , জি এম ভি এন বারান্দা হয়ে এক সিড়ি বেয়ে পৌছলাম এক পথে, এটাই হলো
এখনকার কেদার যাবার পথ. হাঁটা দিলাম সেই ওপথে , খানিক টা যাবার পর পথ একটু নামতে
সুরু করলো , ওমা একি এসে পড়লাম কেদার যাবার পুরনো পথে , যারা আগে কেদার গেছেন
তাঁরা মনে করতে পারবেন ,ঘোড়া ওয়ালারা দেখানে দাঁড়িয়ে থাকতো তার ঠিক আগেই শেষ হত
দোকান পাঠ আর সেখানেই বামদিকে এসে নামত একটা রাস্তা , আমরা ওই রাস্তায় কখনো গিয়ে
দেখিনি কিছু ঘোড়াওয়ালা ওদিকথেকে আসতে দেখেছি এবার আমরা ওই ওপথেই এসে পড়লাম কেদারের
পুরনো পথে . আবার জয় কেদার নাম নিয়ে চলার সুরু . সেই বহু পরিচিত পুরনো পথ , তফাত বলতে লোক আর ঘোড়ার অভাব. রামওয়াড়া পর্যন্ত
পুরনো পথই চলল আমাদের সাথে খানিকটা যাই আর বসে বা দাড়িয়ে দম নিয়ে আবার চলতে থাকি,
রামওয়াড়া পেরিয়ে খানিক যেতেই দেখি আর পুরনো পথের চিহ্ন নেই নতুন করে খানিক পথ তৈরী
হয়েছে , তৈরী হচ্ছে ঝোলা পুল আর একটু এগিয়ে মন্দাকিনী পেরোবার একটা আধপাকা ব্রিজ ,
মানে অস্থায়ী ব্রিজ আরকি, যেটা পেরিয়ে আমরা নদীর ওপারে পৌছে গেলাম ওপারে তৈরী
হয়েছে নতুন পথ সুন্দর বাঁধানো পথ কিন্তু চড়াই খানিক বেশি , বেশ খানিকটা চড়াই
ভাঙ্গার পর একটা বসার জায়গা খাবার দোকানও রয়েছে কয়েকটা , আমরা বসে চা খেলাম .ও হো
একটা কথা তো বলতে ভুলেই গেছি আমরা মানে আমি যশদা আর সুজিতদা , কারণ ছোড়দা বসা টসায়
বিশ্বাস করে না. সে এগিয়ে চলে গেছে বলে গেছে যে মাঝরাস্তায় যেখানে থাকা হবে
সেখানেই দেখা হবে. জায়গাটার নাম লিঞ্চলি মনেতো হয়না কোনো নাম ছিল এই জায়গাটার কারণ
আগেতো ওই পার দিয়ে রাস্তা ছিল আর এদিকটা দেখাযেত একদম ফাঁকা জনমানবশুন্য .এখন আমরা
নদী পেরিয়ে এদিক দিয়ে যাচ্ছি তাই এই হল্ট , নাহলে অপরপারে দেখা যায় গরুর চটি .
আগেও রাস্তা নেই পেছনেও রাস্তা নেই সব চলে গিয়েছে মন্দাকিনিতে কেবল একা একা
দাঁড়িয়ে আছে কয়েক টা বাড়ি –লোকজন কেউ নেই . এদিকে লিঞ্চলিতে জি এম ভি এন কেন্টিন
খুলেছে চা ১০ টিফিন ৪০ , লাঞ্চ ডিনার ৭০ .আমরা এখানে এলাম দুপুর ১-৩০ লাগাদ প্রথমে
চা আর সিগারেট তারপর ভাত রুটি ডাল সব্জি দিয়ে দিপ্রহরের খাবার হলো এরপর ভেবেছিলাম
আরো একটু এগোব কিন্তু আকাশের মুখ গম্ভীর ,খেতে খেতেই আকাশ ভেঙ্গে এলো বৃষ্টি, অতএব
আমরা সেদিনের মত এখানেই থেকে যাব স্থির করলাম. একটা তাঁবু ,তাতে পরপর চারটি গদি
পাতা, এক ধারে গোটা দশেক স্লিপ্পিং ব্যাগ রাখা আছে ,খুঁজে পেতে একটা করে স্লিপ্পিং
ব্যাগ নেওয়া হলো যেগুলোর চেন বন্ধ হয় .তাঁবুতে মালপত্র রেখে আমরা ক্যান্টিনের
বারান্দায় চেয়ারে বসে আকাশে-পাহাড়ে-মেঘে ও রৌদ্রের মেশামিশি উপভোগ করতে লাগলাম
,সামনে দিয়ে এক এক রকম দৃশ্য় বদল হতে থাকে, কখন আপাদমস্তক ভেজা মহিলা ছেঁড়া চটি
পরে চলেছেন সংকর দর্শনে , কখন অস্বারহনে বাবু চলেছেন কেদারনাথে পূজা দেবার বাসনায়.
কখনোবা মোটা মোটা চাকাওয়ালা একটা অদ্ভুতদর্শন গাড়ি কয়েকটা লোহার বিম নিয়ে ওপরে
চলেছে সামনে পেছনে একদল লোক যারা রাস্তায় ধাপ পড়লে সেখান্ দিয়ে গাড়ি যাবার জন্য
কাঠ পাততে পাততে চলেছে.
দেখতে দেখতে সময়
কেটেজায় সন্ধ্যা নামে. ঠান্ডাও বেশ জব্বর, কি আর করা কিছু খয়ে নিয়ে সকাল সকাল শুয়ে
পড়া , স্লিপ্পিং ব্যাগের মধ্যে শুয়ে ছোড়দার দারুন সব ট্রেকিং এর গল্প সুনতে সুনতে ক্রমশ
নিদ্রা দেবীর কোলে ঢুলে পড়লাম .অনেকক্ষণ বাদে ঘুম যখন ভাঙ্গলো , ভাবলাম এইরে বেলা
হয়ে গেল বোধ হয় .মাথার কাছে হাতড়ে মোবাইল টিপে সময় দেখি – হায় কপাল এযে রাত
দুটো,হবেই বা না কেন ? কলকাতায় শুতে শুতে রাত বারোটা আর উঠি সকাল ছটায়. এখানে শুয়ে
পড়ছি আটটার সময় শরীরের ঘড়ি ছ ঘন্টা কাটতেই ঘুম ভেঙ্গে গেছে . আবার পাশ ফিরে সুলাম.
এর পর বার তিনেক ঘুম ভাঙ্গার পর সকাল হলো.ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে উঠে পড়লাম স্লিপিং
ব্যাগ প্যাক করা প্রথম কাজ এবং এটি বিরক্তিকর কাজ কিন্তু কি আর করা নিজের হলেও তো
করতে হত পরের বলে কি ফেলে যাব? এর পরে ব্রাশ করা আর তার পরেই আসল কাজ .তাঁবু থেকে
একটু নেমে একটা টয়লেট কমপ্লেকস মানে বেশ সুন্দর পর পর রয়েছে ,জল ও রয়েছে কিন্তু
যেতে তো হবে আর পারলে গামছা পরে . প্রথম পরিদর্শন করে তাঁবু তে ফিরলাম প্রচুর সাহস
সঞ্চয় করে গামছা আর উপরে ওটা গেঞ্জি পরে রওনা দিলাম এবং ফিরেও এলাম স্ব এবং সুস্থ
শরীরে. গোপালের গল্প মনে পড়ে গেল,- আহা কি আরাম আর ফাইটিং ফিট ফর ট্রেকিং . ব্যাগ
গুছিয়ে ক্যান্টিনে জলখাবারের জন্য হাজির হলাম , আরামসে পুরি তরকারী দিয়ে প্রাতরাশ
সমাপনান্তে ব্যাগ পিঠে এবং লাঠি হাতে বেরিয়ে পড়লাম.যশ্ দা ভালো করে খেলনা ,বলল
পেটটা ঠিক ভালো নেই , চড়াই চড়া সুরু হলো খানিক যাই আর দাড়াই এম্ক্নি করে চলতে
লাগলো সুজিত্দা এগিয়ে গেল সকালে আমরা বেরোবার আগেই ছোড়দা বেরিয়ে গিয়েছিল কারণ উনি
চটপট পৌছতে চান কেদারনাথ কে আলিঙ্গন করার খুব তাড়া ,বলছিলেন কেদার দর্শন করেই
ফেরার জন্য হাঁটা দেবেন , তাই ওনাকে আমরা দেখতেই পাচ্ছিলামনা যশ দা একটু ঢিলা
হাটছিলেন আমি কিছু আগে আগে চলছিলাম অনেকটা চড়ার পর একটা চটি মোত এলো নদীর পারে
আগেকার গরুর চটি দেখাযাচ্ছে তার সামনের পথও নেই পিছনের পথও নেই ,ভয়ঙ্কর সেই ধস
নিয়ে চলে গেছে রাস্তা কিন্তু চটির কয়েকটা বাড়ি অক্ষত আছে সুধু যাবার পথ নেই ,দেখে
মনে হলো চটির উপর দিকে উঠতে পারলে বোধহয় পথ পাওয়া যেতে পারে যাইহোক আবার একদফা চা
হলো বিস্কুট দিয়ে খানিকটা বসার পর আবার রওযানা হলাম খানিক দূর যাবার পর যশ্ দা
দেখি জলের বোতল হাতে আড়ালের দিকে চলেছে , বুঝলাম পেটটা ঠিক নেই , একটু দাঁড়িয়ে
গেলাম উনি ফেরা পর্যন্ত তারপর আবার হাঁটা দিলাম কেবল চড়াই চলছে , আগে কেদারে এত
চড়াই ছিলনা , এই পার দিয়ে রাস্তা খুব ভালই হয়েছে কিন্তু লম্বায় এবং চড়াইতে খানিকটা
বেড়ে গিয়েছে .নিজের মনে নিজের মত হাঁটতে লাগলাম খানিক দূর যাবার পর বেশ একটা চড়াই
চরে বেশ সমান মত একটা জায়গা সেখানে একটা তাঁবুতে ডাক্তার বসে ওষুধ পত্র আছে ,
পেছনে তাকিয়ে দেখি যশ দার জন পাত্তা নেই কাঁধের ব্যাগ নামিয়েরেখে খানিক অপেক্ষা
করি দাদার আসার আসায় , মিনিট পনের কেটে গেল তবু দাদা আসেনা , কি করি ? ব্যাগ
ওখানেই রেখে উল্টো পথ ধরলাম খানিক নেমে দেখি একটা বড় পাথরের পাশে বেশ কিছু লোক
দাঁড়িয়ে আছে আর একজন পথের উপর শুয়ে , আরে এজে আমাদের যশ দা .. এক ছুট্টে হাজির
হলাম দেখি দাদা শুয়ে ব্যাগটা পাশে পড়ে প্রায় অচৈতন্য .কিসর্বনাশ কি করি? তাড়াতাড়ি
মুখে চোখে বোতল থেকে জল দিলাম , একটু চোখ খুলল বলল কি একবার আবার টয়লেট গিয়ে একদম
দুর্বল লাগছে খানিকটা বাদে কোনক্রমে উঠে দাঁড়ালেন আমি ব্যাগ নিলাম আসতে আসতে
ডাক্তারখানা পর্যন্ত এসে পৌছলাম ডাক্তার দেখে ঔসধ দিলেন পাশের তাম্বু থেকে এককাপ
হরলিক্স করে দিল সে সব খয়ে একটু ভালো লাগতে আমরা আবার হাঁটতে লাগলাম. আধঘন্টা পরে
দেখি সুজিত দা বসে আছে আমাদের জন্ন .আমরা প্রায় এসে গেছি দুরে তাম্বুর সহর দেখা
যাচ্ছে .প্রথমেই পড়ল জি এম ভি এন এর থাকার জায়গা . আমরা এগিয়ে গেলাম হেলিপ্যাড এর
দিকে সেখানথেকে মিনিটে মিনিটে হেলিকপ্টার ছাড়ছে .তার পেছনেই অনেক তাঁবু এআর
ক্যান্টিন আমরা ওখানে গিয়ে আমাদের থাকার তাঁবু বুক করে দিলাম যশ্ দা একটু বিশ্রাম
নিতে লাগলেন আর একদফা চা হলো আর তারপর আমি আর সুজিত দা রওনা দিলাম কেদার মন্দিরের
দিকে যশ দা রইলেন তাম্বু তে .ওহো ভুলে গিয়েছিলাম, তাঁবুতে ঢোকার ঠিক আগেই ছোড়দা
এসে হাজির, অত্যন্ত রেগে গিয়েছেন কারণ মন্দিরে পান্ডারা বলেছে একটু দাঁড়ান এখন
লিঙ্গ আলিঙ্গন করা যাবেনা , ছোড়দা কে এই
কথা! বোধয় বার দশেক কেদার এসেছেন এমনকি যেবার দুর্ঘটনা ঘটে সেবারও,তাকে বলেকীনা
আলিঙ্গন করা যাবেনা .ছোড়দা ওদের কথা শোনেননি আলিঙ্গন করেছেন. হলে কি হবে ওনার মনে
ঠিক শান্তি হয়নি , বললেন বাবা এখানে নেই ,বাবা চলে গিয়েছেন . আমিও থাকবনা .. চললাম
. বলে দাদা নিচের দিকে হাঁটা দিলেন . কি আর করা দাদা তো আগেই বলে ছিলেন দে কেদারের
পর উনি ওনার রাস্তায় যাবেন আমরা যাব মদমহেশ্বর , এবার আমরা তিন বুড়ো রইলাম . আমি
আর সুজিত্দা গুটি গুটি পায়ে তাম্বুর সহর ছেড়ে মন্দিরের পথে রওনা দিলাম .
প্রথমেই
গেটে আমাদের তীর্থযাত্রার কার্ড দেখতে চাইল , দেখিয়ে আমরা চললাম মন্দিরে .আগে একটা
সেতু ছিল আল্ক্নন্দার ওপরে ঠিক কেদার মন্দির সহরে ঢোকার মুখে , অনেকে যারা আগে
গিয়েছেন হয়ত মনে পড়বে ঘোড়ার থাকার জায়গা ছিল আগে ধিক তার পর এখন তো আমরা অনেক আগেই
নদী পেরিয়ে এসেছি তাই আর নদী পার হবার কথা নয় কিন্তু এগোতেই দেখি আবার একটা লোহার
সেতু ,নতুন করে তৈরী হয়েছে . কি ব্যাপার? সামনে বাম দিকে তাকাতেই চোখে পড়ল নদী
খাতে আগের লোহার সেতুর ভাঙ্গাচোরা হার পাজর পরে আছে .ওহো আগে আলোক্নন্দার প্রধান
স্রোত মন্দিরের দিকে তাকালে আমার বামদিক দিয়ে বইত আর তার ওপরেই ছিল লোহার সেতু ,
এছাড়াও ডানহাতি একটা সরু স্রোত ছিল যেটা ভৈরব মন্দিরে যেতে পেরোতে হত . বিপর্যয়ের
পর প্রধান ধারা দুই ভাগে প্রায় সমান সমান ভাগ হয়ে গেছে আর তাই সেই সরু ধারা এখন
প্রবল হয়ে আমাদের সামনে হাজির.আমরা তাকে লোহার সেতু দিয়ে পেরিয়ে গেলাম সুন্দর
রাস্তা কিন্তু একী দৃশ্য় ! কোনো বাড়ি অক্ষত নেই ,কালী কমলি ধন্স্স্তুপ লোকে বলল এমন ভাবে ভেঙ্গেছিল যে যেকোনো সময়
দুর্ঘটনা ঘটতে পারে তাই একেবারে ভেঙ্গে
দেওয়া হয়েছে . মন্দিরে যাওয়ার রাস্তার ধরে কোনো দোকান নেই কেবল কয়েকজন
টেবিল পেতে ডালা বিক্রি করছে . আগে মন্দিরের চাতাল্ টা রাস্তা থেকে মানুষ প্রমান
উচুতে ছিল চাতালের বাম্ দিক দিয়ে রাস্তা গিয়েছিল ভারত্শেবাশ্রম আর বিড়লা ধর্মশালার
দিকে তাছাড়াও ওই দিক দিয়েই জেতেহত সংকর আচার্যের সমাধি স্থলে, কই সেই রাস্তা ?
মন্দিরের চাতাল কেবল দুই তিন ফুট উঁচু ডাইনে বাঁয়ে সুধুই পাথর কোনো পথের চিহ্ন
মাত্র নেই . কয়েকজন পান্ডা পুরোহিত উপস্থিত ছিলেন , তাদের কাছেই জুত খুলে পূজার
উপকরণ নিয়ে মন্দিরে ঢুকলাম ক্যামেরা বারণ তাই ভিতরের ছবি নিতে পারলাম না . যাত্রী
খুবই কম তাই পূজার সুযোগ খুব ভালো পান্ডার পড়ানো মন্ত্র ছাড়াও মনের সুখে কেদার
লিঙ্গে মাথা ঠেকালাম বিভিন্ন দিক থকে মনের সুখে প্রদক্ষিন করলাম মনে মনে বললাম হে
ত্রিলোক্ নাথ, হে জগদীশ্বর, হে পশুপতি ক্রোধ সংবরণ কর, অর্বাচীন মানুষদের সুবুদ্ধি দাও , অনাদি
অনন্ত সর্বব্যাপী তোমাকে উপলব্ধির দিকে এগিয়ে দাও হে নাথ .এই ভব চক্র থেকে
নির্গমনের রাস্তা দেখাও .
মন্দির থেকে
বেরিয়ে সেদিন আর কোথাও গেলামনা , গুটি গুটি তাঁবুর দিকে রওনা হব , দেখি যশ দা এসে
হাজির , বললেন আর থাকাগেলনা বুঝলে এসে ও মন্দির না গিয়ে কি থাকা যায় ? তাই যাইহোক
করে চলে এলাম.এবার আমরা মন্দিরের সামনে একটা বেনচি তে বসলাম যশদা গেলেন দর্শনে .সমনে বসে বসে তাকিয়ে থাকি
মন্দিরের দিকে আর অবাক হই যেখানে কোনো বাড়ি গোটা খাড়া নেই সেখান কিকরে সেই ধংসের
হাত থেকে বেঁচে গেল মন্দির?
বেশকিছু লোক আসছে
হেলিকপ্টারএ নেমেই মন্দির দেখতে চলে আসছে , ঝটপট পুজো দিয়ে পুন্নি বগলে উল্টা পায়ে
দৌড় হেলিকপ্টারের দিকে ,ফিরতে হবে না, বলতে হবেনা , কত বড পুন্যবান যে কেদার দর্শন
করে এসেছে. বোকাগুলো বুঝলনা যে তিনি শুধু ওই কেদার লিঙ্গে নেই ,তিনি আছেন সর্বত্র
আছেন পাহাড়ে আছেন বরফে আছেন মুমুক্ষু তীর্থযাত্রীর কষ্টে , আছেন বরফগলা জলে ,আছেন
হাড় কাঁপানো ডান্ডা হাওয়ায় , আছেন চা ওয়ালার চা এর ভাঁড়ে .
এইসব সাত পাঁচ
ভাবতে ভাবতে যশ্ দা এসেগেলেন আমরা সবাই মাইল ফিরেচল্লাম আমাদের তাঁবু তে.আমাদের
তাঁবু তে দশটা বিছানা পাঁচটা নিচে আর পাঁচটা ওপরের টায়ার . লোক বেশি নেই তাই
আমাদের তাঁবুতে আমরা তিনজনেই ছিলাম হাত পা চড়িয়ে তিনজন তিনটে নিচের বিছানা নিলাম
মালপত্র অপরের বিছানায় রেখে দিলাম ভালো করে দেখেশুনে তিনটে স্লিপিং ব্যাগ নিয়ে
নিলাম আর বাকি গুলো অন্য বিছানাতে রেখে দিলাম তার পর তিনজন মিলে সামনে টায় রাখা
চেয়ারে বসে জম্পেশ করে চা খেলাম. ক্রমশ সন্ধ্যা নামল তাবুর এল জলে উঠলো, আমর
ক্লান্ত ছিলাম একটু পরেই ক্যান্টিনে গিয়ে রাতের খাবার খয়ে নিয়ে যে যার বিছানায়
স্লিপ্পিন ব্যাগের মধ্যে সেঁধিয়ে গেলাম .
ভোর হোল ,বাইরে
বেরিয়ে মুখ ধুয়ে নিলাম জল তো নয় যেন বরফ কুচি , পুজো দেব তাই চা ছাড়া আর কিছু
খেলাম না একপ্রস্থ বাঁচিয়ে আনা কাচা জামাকাপড় পরে রওয়ানা কইলাম মন্দির . আবার
একবার পুজো দিয়ে মন্দির প্রদক্ষিন করলাম দেখলাম সেই পাথর খন্ড যাদিয়ে রক্ষা পেয়েছে
মন্দির তারপর বেরিয়ে চা খেয়ে তাম্বুতে ফরে এলাম পুরি সহযোগে জলখাবার খয়ে মালপত্র
কাঁধে আবার রওয়ানা কইলাম ফেরার পথে .
ফেরার পথ তো
প্রায় শুধুই নামা তাই আমরা মোটামুটি ধিক করে ছিলাম যে একেবারে গৌরিকুন্দেই নামব
সেইভাবেই চলতে লাগলাম দুপুর বেলায় লিন্চলি পৌছে ভাত ডাল দিয়ে লাঞ্চ আর বিকেল বেলায়
পৌচেগেলাম গৌরীকুন্ড .হোটেলে গিয়ে মাল পত্র নিয়ে গড়ে গিয়ে দেখি আরে ছড়্দা হাজির ,
বলে তোমাদের ফেলে কি আর যেতে পারি তাই এখানেই অপেক্ষা করছি .খুব ভালো লাগলো আমাদের
একসঙ্গে রাত কাটানো হলো পরের দিন মাল পত্র আবার নতুন করে গুছিয়ে চললাম জিপ ধরতে .
স্টান্ডে গিয়ে হঠাত মনে পরে যে আমার চার্জার টা তো লাগানো আছে ঘরে , আবার দৌড় অনেক
গুলো সিঁড়ি ভেঙ্গে পৌছে দেখি ঘরে তো নেই , কাকেই বা বলি হটলেও কেউ নেই , খানিক পর
পাওয়াগেল কেয়ার টেকার কে , সে বলল ওটা সে তুলে রেখেছে আর তার অপর এনে দিল ,আবার ফিরলাম
জিপ স্টান্ডে দেখি অন্যরা চলে গেছে আগের জিপে অগত্যা পরের জিপে চললাম.যাবার সময়
জিপ কর্ণপ্রযাগ থেকেই ছেড়ে ছিল কন্তু এবার নামিয়ে দিল একটু দুরে একটা ব্রিজের আগে
, ওই ব্রিজ আর গাড়ি পারবেনা ,কি আর করা মাল নিয়ে সবাই মাইল হাঁটা দিলাম গিয়ে
পৌছলাম কর্ণপ্রযাগ .এবারের মত কেদার যাত্রা শেষ এবার আমরা তিন বুড়ো রওয়ানা সেব
দ্বিতীয় কেদার মদ মহেশ্বর এর দিকে আর ছড়্দা যাবেন নিজের পথে .
No comments:
Post a Comment